ইরানের সঙ্গে ফের সংঘর্ষ, ‘কঠোর জবাবের’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

প্রকাশ:

কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘কঠোরভাবে’ আঘাত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করব’ এবং এই হামলার অবশ্যই জবাব দেওয়া হবে। এর আগে সোমবার ট্রাম্প ইরানকে একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবেও অভিহিত করেন।

রোববার হরমুজ প্রণালীর একটি ইরানি দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটিতে মাইন বসানো ঠেকাতে তারা লারাক দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে এই অভিযান চালায়। এর পরপরই তেহরান পাল্টা জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ইরান জানায়, তারা জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।

ইরানের শক্তিশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে। তবে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী লক্ষ্য করে ছোড়া প্রায় সব ক্ষেপণাস্ত্রই ভূপাতিত করা হয়েছে, শুধু একটিকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। জর্ডানের সেনাবাহিনী আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানালেও সেগুলোর উৎস সম্পর্কে কিছু বলেনি। এছাড়া আবুধাবি জানিয়েছে, তারা দেশের জলসীমার ওপর একটি ড্রোন প্রতিহত করেছে, তবে আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবিকে তারা ‘ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করেছে। সোমবার সন্ধ্যায় আইআরজিসি জানায়, হরমুজের ওপর আরও একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। একই রাতে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানায়, ওমানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে তিনটি ‘অজ্ঞাত বস্তু’ আঘাত হেনেছে, তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোমবার কিরগিজস্তানে এক সম্মেলনে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা সমঝোতা ও বোঝাপড়ার পথ খুঁজে যেতে চাই। যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া আমাদের বা এই অঞ্চলের স্বার্থে নয়।’ তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট তেহরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করার লক্ষ্যে চাপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। উত্তর ক্যারোলাইনায় জি-২০ বৈঠকের ফাঁকে তিনি বলেন, ‘আমরা চাপ অব্যাহত রাখব’ এবং কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে পরিস্থিতির একটি মোড় আসতে পারে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী অবরোধের মাধ্যমে ইরান বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালী দিয়েই পরিবহন করা হতো এবং বর্তমানে দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছে।

শেয়ার করুন