টানা বৃষ্টিতে স্থবির রাজধানী, বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার পূর্বাভাস

প্রকাশ:

মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এবং এর একটি অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত পৌঁছেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জানান, বর্তমানে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা পূর্ব-দক্ষিণাঞ্চল থেকে সরে গিয়ে মধ্য-উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে সিলেট ও চট্টগ্রামে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশালে বৃষ্টিপাতের মাত্রা বেড়েছে।

আরেক আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীতে ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামী ২-১ দিন মধ্য-উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ ঢাকায় এমন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর ২-৩ দিন বৃষ্টির মাত্রা কিছুটা কমলেও ১৮-১৯ জুলাইয়ের পর থেকে তা পুনরায় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবারের বৃষ্টিপাতকে ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, অল্প সময়ে অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে। এছাড়া আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে যে, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে মৌসুমি বায়ু আরও শক্তিশালী হয়ে উপকূলীয় এলাকাসহ সারাদেশে টানা কয়েকদিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি ঝরাতে পারে।

টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে রাজধানীর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, পল্লবী, পুরান ঢাকা, বংশাল, নিউমার্কেট, কাকরাইল, নয়াপল্টন ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন নিচু এলাকার সড়ক হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ জানায়, বনানী কবরস্থানের কাছে ঢাকা গেট সংলগ্ন মূল সড়ক, বনানী-কাকলী এক্সপ্রেসওয়ের র‍্যাম্প এবং ক্যান্টনমেন্ট গার্লস স্কুলের সামনের ইসিবি এলাকায় পানি জমে যানবাহন চলাচলে ধীরগতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে বৃষ্টির পানির পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসার পাইপলাইনের কাজের কারণে যান চলাচল আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

সোমবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র অনুষ্ঠিত হওয়ায় পরীক্ষার্থীরা জলাবদ্ধ রাস্তা পার হয়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে গিয়ে মারাত্মক বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। সাধারণ কর্মজীবী মানুষ ও পথচারীরা দীর্ঘ সময় যানজটে আটকা পড়েছেন। অনেক স্থানে বৃষ্টির পানিতে গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় যানজট পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রিকশা ও সিএনজিসহ গণপরিবহনে দুই থেকে তিন গুণ বাড়তি ভাড়া দাবি করা হচ্ছে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ নগরবাসীকে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় নগরবাসীকে প্রয়োজনে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন