রিলসের যুগেও তিন ঘণ্টার সিনেমা দর্শক দেখছেন: প্যানেল আলোচনায় মত

প্রকাশ:

ফেসবুক রিলস ও ইউটিউব শর্টসের আধিপত্যের এই যুগে তিন ঘণ্টার সিনেমা দর্শকেরা মনোযোগ দিয়ে দেখছেন কি না, তা নিয়ে কয়েক বছর ধরেই নানা প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে চরকি আয়োজিত ‘দ্য রাইজ, রিয়েলিটি অ্যান্ড রিইনভেনশন অব বেঙ্গলি সিনেমা’ শীর্ষক এক প্যানেল আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন জানান, কনটেন্টের গুণগত মান ঠিক থাকলে দর্শক তিন ঘণ্টার সিনেমা কিংবা রাত জেগে ৮ থেকে ১২ পর্বের ওয়েব সিরিজও সমান আগ্রহে দেখছেন। তিনি বলেন, একটি কনটেন্টের শক্তি তার ভেতরের এনার্জি ও সততার ওপর নির্ভর করে। অনেক সময় নির্মাতারা দর্শককে আটকে রাখতে নানা ধরনের টুইস্ট বা ম্যাজিক তৈরি করেন, কিন্তু ছবির ভেতরে গভীরতা না থাকলে কৃত্রিম আকর্ষণ দিয়ে দীর্ঘ সময় দর্শককে ধরে রাখা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, গল্প শক্তিশালী হলে স্থায়িত্ব বা দৈর্ঘ্য বড় বিষয় নয়। যদি সিনেমার মূল ভাবনা শক্তিশালী না হয়, তবে দর্শক পাঁচ মিনিটও দেখবেন না।

আরেক প্যানেলিস্ট আদনান আল রাজীব বলেন, একজন দর্শকের সামনে এখন প্রচুর বিকল্প রয়েছে। কোনো ছবি দেখতে বসার পর ওই ছবির জন্য সময় দেবেন কি না, তা ছবির ওপরই নির্ভর করে। তিনি মনে করেন, পেসিং দিয়ে একটি সিনেমাকে বিচার করা উচিত নয়, কারণ সিনেমার ধরন অনুযায়ী তা ধীরগতির বা দ্রুতগতির হতে পারে। রাজীবের মতে, সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই দর্শক সিদ্ধান্ত নেন তিনি ছবিটি দেখবেন কি না। এই সময়ের মধ্যে গল্পের গভীরতায় দর্শককে নিয়ে যেতে পারলে তারা শেষ পর্যন্ত ছবিটি দেখবেন। এর জন্য গল্পটি এমনভাবে ডিজাইন করা প্রয়োজন যাতে শুরু থেকেই দর্শক গল্পের ভেতরে ঢুকে যেতে পারেন।

অনুষ্ঠানে এআইসহ সমসাময়িক নানা বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, তারা চান অন্তত ২০টি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বিভিন্ন জনরায় কাজ করুক, যাতে গুণী নির্মাতা ও শিল্পীরা তাদের কাজ করার সুযোগ পান। চরকি কার্নিভ্যালের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই প্যানেল আলোচনায় মডারেটর ছিলেন সাদিয়া খালিদ ঋতি। এ ছাড়া প্যানেলিস্ট হিসেবে নুহাশ হুমায়ূনও বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন।

শেয়ার করুন