চাঁদপুরে তিন বিচারকের আদালত অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জনের ঘোষণা আইনজীবীদের

প্রকাশ:

চাঁদপুরের তিন বিচারকের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ এনে অনির্দিষ্টকালের জন্য তিনটি আদালত বর্জনের ডাক দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। গতকাল বুধবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জরুরি সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বর্জনের আওতায় থাকা আদালতগুলো হলো—চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এবং সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত। এই আদালতগুলোর দায়িত্বে থাকা যে তিন বিচারকের বিরুদ্ধে বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন—চাঁদপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক পলাশ বর্ধ্বন এবং সদর সিনিয়র সহকারী জজ শম্পা ইসলাম। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টু বলেন, অভিযুক্ত বিচারকদের সঙ্গে আইনজীবীদের সমন্বয়হীনতা দীর্ঘদিনের। আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ একাধিকবার তাঁদের মৌখিকভাবে বিষয়টি জানালেও কোনো সুরাহা হয়নি। উল্টো তাঁরা নিজেদের খেয়ালখুশিমতো বিচারকাজ পরিচালনা করায় আইনজীবীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, যার ফলে সমিতি এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শুধু এই তিনটি আদালতই নয়, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ আরও কয়েকটি আদালতে আইনজীবীদের সঙ্গে ‘শিক্ষক-ছাত্রের মতো’ আচরণ করা হয়। এমনকি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও আইনজীবীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।

উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান বার সভাপতি। একই সঙ্গে আইনজীবীদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত ও সমাধানের চেষ্টা করা হবে। সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আগামী সাত দিন কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকের কার্যালয় থেকে মামলার কপির জন্য কোনো অর্থ দেওয়া হবে না। আদালত সংশ্লিষ্ট পেশকারদের আচরণেও আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে অসম্মানিত বোধ করছেন বলে অভিযোগ করা হয়। সভাপতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, স্থানীয়ভাবে সমস্যার সমাধান না হলে বিস্তারিত সমস্যা লিখিত আকারে বার কাউন্সিলকে জানানো হবে। পাশাপাশি সমিতির এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে কোনো আইনজীবী বা তাঁদের সহকারী কাজ করলে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন তালুকদার ফয়সালের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কোহিনুর রশিদ, জিপি এ জে এম রফিকুল হাসান রিপন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি কোহিনুর বেগম এবং সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইকবাল বিন বাশার। এছাড়া সাবেক সভাপতি সেলিম আকবর, আহছান হাবীব, এ কিউ এম মোস্তফা কামাল, আবুল খায়ের মো. সালেহ, সাবেক পিপি আমান উল্যাহ (১) ও মো. জসিম মেহেদী সভায় নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

সভায় সাধারণ আইনজীবীদের পক্ষে জাকির হোসেন, তাফাজ্জল হোসেন, মহসিন খান, সলিম উল্যাহ সেলিম, বাপ্পি, আলম খান মঞ্জু, আব্দুল লতিফ শেখ, Shah Alam ফরাজী, নাইমুল ইসলাম, আক্তার সরকার, কামাল উদ্দিন আহমেদ, গোলাম মোস্তফা, গাজী দুলাল ও সাদ্দাম হোসেন বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিচারপ্রার্থীদের আইনি সেবা দিতে গিয়ে আইনজীবীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তবে তাঁরা বিচারকদের সঙ্গে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেই পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে চান বলে পুনর্ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন