বন্ধ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বাতিল করবে বিএসইসি

প্রকাশ:

বিশ্বের কোনো দেশেই উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের সুযোগ নেই। এই নীতি অনুসরণে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ার লেনদেন বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান এসব কথা জানান। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন সিএমজেএফের সভাপতি মনির হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রাসেল।

মাসুদ খান জানান, পুঁজিবাজারের সংস্কারের অংশ হিসেবে আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করা, ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ বাড়ানো, মার্জিন ঋণের বিধিমালা শিথিল, টি+১ সেটেলমেন্ট চালু, বন্ড বাজারকে মূল মার্কেটে আনা এবং ডেরিভেটিভস চালুর মতো বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে আইপিওতে আসতে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং বিপুল নথিপত্র জমা দিতে হয়, যার ফলে অনেকে ব্যাংকের সহজ ঋণ বেছে নেয়। এই প্রক্রিয়া সহজ করতে কমিশন কাজ করছে। এছাড়াও, ইউনিলিভার ও ইনসেপ্টার মতো বড় কোম্পানিগুলোকে ১০ শতাংশ শেয়ার অফলোড করেই ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বর্তমানে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ২৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে এ সুবিধা পায়।

বাজার তদারকির বিষয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) এখন প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আগে অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকতে হতো, যা এখন ডিএসই নিজেই তাৎক্ষণিক করতে পারবে। সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণের ক্ষমতাও স্টক এক্সচেঞ্জকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মিউচুয়াল ফান্ডকে শক্তিশালী করতে বিদেশের আদলে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার সনদ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

মার্জিন ঋণ নীতিমালার বিষয়ে তিনি জানান, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই নতুন বিধিমালার খসড়া প্রকাশ করা হবে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য ঋণ পাওয়া সহজ করবে। এছাড়া ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার এবং লন্ডনে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের তালিকাচ্যুতি ঠেকাতে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। অনিয়মকারীদের শাস্তির বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতের একটি কমিশন প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ লাখ টাকা। এই পরিস্থিতি বদলাতে বিশেষ বেঞ্চ গঠন এবং পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমরা কাজের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ পরিকল্পনায় এবং ২০ শতাংশ বাস্তবায়নে ব্যবহার করি।

ডিএসইর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি ডিএসইর নিজস্ব বিষয়, তবে বিএসইসি থেকে চাকরি হারানো ব্যক্তিদের বিষয়ে চলতি মাসের মধ্যেই একটি সমাধান আসবে। বিএসইসিতেও যোগদানের আগে ৩ মাস এই বাজার নিয়ে পরিকল্পনা করেছি।’ তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট ও পাস হওয়া বাজেটে পার্থক্যগুলো এসেছে। বর্তমান সরকার পুঁজিবাজারবান্ধব এবং তাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন