সিটি স্ক্যান বিভাগের নির্জন পরিবেশে স্যানিটাইজারের কড়া গন্ধের মাঝে সময় কাটছিল একাকী। ঘরের এক কোণে ‘হেনরি’ নামের হসপিটাল স্টাফ বিড়ালটি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। সেখানে হুইলচেয়ারে বসে থাকা আশির কাছাকাছি এক ভদ্রমহিলার দিকে নজর পড়ল। তার পরনে হালকা মেরুন রঙের স্কার্ট, কানে পাই আকৃতির দুল এবং নখে ক্রিসমাস ট্রির নকশা। তার পাশে একটি বড় উজ্জ্বল নীল স্যুটকেস রাখা, যার গায়ে ‘e appy’ লেখাটি কিছুটা অস্পষ্ট হয়ে আছে এবং হ্যান্ডেলে একটি প্যাডিংটন পুতুল ঝুলছে।
নার্স আইডি চেক করে যাওয়ার পর থেকে রুমটি প্রায় নিস্তব্ধ। ভদ্রমহিলা নিজেই আলাপ শুরু করলেন। তিনি জানালেন, সিটি স্ক্যানের ইনজেকশনের অস্বস্তি নিয়ে তার তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। আলাপের একপর্যায়ে তিনি তার স্বামীর প্রিয় খাবারের কথা উল্লেখ করে বিষণ্ণভাবে বললেন, ‘ইশ, আমিও যদি তা–ই করতাম।’ তিনি জানান, নিজের খাবারগুলো পায়রাদের দিয়ে দিয়েছেন। আজ সব বন্ধ থাকায় খাবারের কষ্ট হবে কি না জানতে চাইলে তিনি হাসিমুখে জানান, কোনোভাবে ম্যানেজ করে নেবেন এবং আমাকে বাড়িতে গরম কিছু খাওয়ার পরামর্শ দেন।
কিছুক্ষণ পর নার্স লিডিয়া প্রবেশ করেন। তার বুকপকেটে একটি ছোট সান্তা ক্লজ উঁকি দিচ্ছিল। লিডিয়া হুইলচেয়ারের লক খুলে তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রশ্ন ওঠে, ক্রিসমাসের দিনেও তাকে হাসপাতালে থাকতে হবে কি না। লিডিয়া জানান, ব্যাকলগ এবং লোকবল কম থাকায় নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ভদ্রমহিলা কোনো প্রতিবাদ না করে চুপচাপ হুইলচেয়ারে বসে রইলেন। তিনি চলে যাওয়ার পর ঘরটি আরও বেশি ফাঁকা মনে হতে থাকে, আর কেবল মনিটরের সবুজ দাগগুলো নড়াচড়া করতে থাকে।





