এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে থাকার আশ্বাস ইইউ ও জি-৭৭-এর

প্রকাশ:

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থায়ী উত্তরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের চলমান প্রচেষ্টায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং গ্রুপ অব সেভেনটি সেভেন অ্যান্ড চায়না (জি-৭৭)। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পৃথক দুটি বৈঠকে এই আশ্বাস দেওয়া হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্তাভরস লামব্রিনিদিস এবং জি-৭৭ ও চীনের চেয়ার ও জাতিসংঘে উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরের মধ্যে এই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকগুলোতে বাণিজ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলএফএমইএবি) সভাপতি সৈয়দ নাসিম মনজুর এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

আলোচনাকালে বাণিজ্যমন্ত্রী এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশের অনুরোধের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি সংকটের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কাঠামোগত সংস্কার সুসংহত করার জন্য বাড়তি সময়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি সুশাসন জোরদার, আর্থিক খাতের উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, দেশীয় সম্পদ আহরণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার সরকারি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী বলেন, বাড়তি সময় পেলে শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে এবং উত্তরণ প্রক্রিয়াটি টেকসই ও অপরিবর্তনীয় হবে।

ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত লামব্রিনিদিস বাংলাদেশ সরকারের সুশাসন ও টেকসই উন্নয়নের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুর বিষয়টিকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি উত্তরণে সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জি-৭৭-এর চেয়ার রাষ্ট্রদূত লাসেরে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর দাবিকে অত্যন্ত শক্তিশালী বলে অভিহিত করেন। তিনি সরকারের বাস্তবমুখী সংস্কার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান এবং জি-৭৭-এর সমর্থন বজায় রাখার নিশ্চয়তা দেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের উত্তরণ কৌশল নিয়ে জি-৭৭ভুক্ত দেশগুলোর জন্য একটি পৃথক ব্রিফিংয়ের প্রস্তাব দেন, যা বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সাদরে গ্রহণ করে। বৈঠক শেষে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী ইইউ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনাকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে মন্তব্য করেন এবং উত্তরণে ইইউর সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন