ভবিষ্যতে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কবর দেয়া হবে: চিফ হুইপ

প্রকাশ:

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি জানিয়েছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকার কারণে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষে সংসদের টানেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই বিতর্কিত ৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ বা 'কবর' দেওয়া হবে।

নির্বাচনী ফলাফল সম্পর্কে চিফ হুইপ জানান, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫টি ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী জোটের প্রার্থী ড. অলি আহমেদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট। নির্বাচন তড়িঘড়ি করে আয়োজন করা হয়েছে এমন সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়েছে, যেভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন ও ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে—তা সবই বিদ্যমান সংবিধান মেনেই করা হয়েছে।

নূরুল ইসলাম মণি বলেন, বর্তমান কাঠামোতে ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় তা মেনে চলা ছাড়া উপায় ছিল না। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এই অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা দূর করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর ধরে মানুষ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রকৃত আমেজ থেকে বঞ্চিত ছিল এবং এখন গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ প্রয়োজন।

এদিন ভোটাভুটিতে ছয়জন সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতি নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তারও ব্যাখ্যা দেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত কারণে মোট ছয়জন সদস্য ভোট দিতে পারেননি। অনুপস্থিত সদস্যদের মধ্যে বিএনপি দলীয় মির্জা আব্বাস (পূর্বানুমতি নেওয়া), কামাল পাশা এবং ড. ওসমান ফারুক চিকিৎসাধীন ছিলেন। এছাড়া খেলাফত মজলিসের আব্দুল হান্নান, স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানা এবং গাজী নজরুল ইসলাম নির্বাচনে ভোটদানে বিরত ছিলেন।

শেয়ার করুন