দক্ষিণ গফরগাঁও সদর দপ্তর নিয়ে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল

প্রকাশ:

নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার সদর দপ্তর নয়াবাড়ি মৌজায় স্থাপনের বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থার বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার জজ আদালতে এই আপিল আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির এক পর্যায়ে আদালত রুল নিষ্পত্তির আদেশ দেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদেশ রিকল করে চেম্বার জজ আদালতে পুনরায় শুনানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আপিল আবেদনের শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. আহসানুল করিম। এর আগে, গত ২৬ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি হাবিবুল গণি ও বিচারপতি তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের সদর দপ্তর নয়াবাড়ি মৌজায় স্থাপনের বিষয়ে দুই মাসের স্থিতাবস্থা জারি করেছিলেন। একই সঙ্গে আদালত রুল জারি করে জানতে চেয়েছিলেন, পাগলা থানা থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বাড়ির পাশে নয়াবাড়ি মৌজায় উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।

দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের পাঁচুলি গ্রামের বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান ফুরকানের দায়ের করা রিটের প্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন। রিট আবেদনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ৮ জুলাই এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ১৪ জুলাই প্রকাশিত দুটি প্রজ্ঞাপনকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। আদালত তার রুল জারির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন যে, কোনো প্রকার নিরপেক্ষ মাঠপর্যায়ের তদন্ত ছাড়াই এবং স্থানীয় জনসাধারণের মতামত না নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভৌগোলিক কেন্দ্রিকতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনস্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনা না করার বিষয়টিও উঠে এসেছে।

আদালতের আদেশে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, নিকার চেয়ারম্যান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উল্লিখিত প্রজ্ঞাপন দুটির ভিত্তিতে গৃহীত সকল পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই নিকার বৈঠকে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলাকে বিভক্ত করে আটটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। গেজেট অনুযায়ী, নতুন উপজেলার সদর দপ্তর উস্থি ইউনিয়নের নয়াবাড়ি মৌজায় স্থাপনের কথা রয়েছে। নতুন এই উপজেলায় ২৪টি সরকারি অফিসের জন্য ২৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ অনুমোদন করা হয়েছে। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান বাচ্চুর ইচ্ছায় থানা থেকে দূরে সদর দপ্তর স্থানান্তরের চেষ্টার বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ নিয়ে নিয়মিত বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন এলাকাবাসী।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিকার-১ শাখা থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২৩তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গফরগাঁও উপজেলার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন এ উপজেলা গঠন করা হয়েছে। নতুন ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নগুলো হলো- মশাখালী, পাঁচবাগ, উস্থি, পাইথল, মশাখা

গেজেটে আরও বলা হয়, নতুন উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপিত হবে উস্থি ইউনিয়নের আওতাধীন ১৪৩ নম্বর জে.এল.ভুক্ত নয়াবাড়ী মৌজায়। উপজেলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, উপজেলা ভূমি অফিস, থানা, উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস, কৃষি অফিস, শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের

শেয়ার করুন