আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তালেবান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। সোমবারের এই বন্যায় দেশটির নুরিস্তান প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে পারুন শহরের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। নিখোঁজদের তালিকায় শহরটির মেয়রও রয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া বন্যায় অন্তত ৮০ জন আহত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও চিত্রে পারুন শহরের ঘরবাড়ি, দোকানপাট এবং সরকারি স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠেছে। স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা শপৌল-এর প্রধান আশিকুল্লাহ সাফি এএফপিকে জানিয়েছেন, বন্যায় পারুন পৌরসভা ভবনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পুরো এলাকা বড় বড় পাথর ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জামের অভাবে স্থানীয়রা নিজেরাই ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছেন। তালেবান কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, এই বন্যায় প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
তালেবান সরকারের আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করেছে যে, বুধবার পর্যন্ত আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ১০টিতে ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। নাগরিকদের নদী তীরবর্তী ও বন্যাপ্রবণ এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আফগানিস্তান চরম আবহাওয়ার শিকার হচ্ছে। কয়েক দশকের যুদ্ধ ও অস্থিতিশীলতার কারণে দেশটির অবকাঠামো এবং দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে।
নুরিস্তান অঞ্চলটি তার সবুজ পাহাড় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত এবং ২০২০ সালে এটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই এলাকায় বন উজাড় ও অবৈধ গাছ কাটার ফলে মাটির পানি শোষণ ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে, যা আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দেশটি তীব্র অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও উত্তর আফগানিস্তানে বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছিল, যেখানে সরকারি হিসাবে ১৫০ জন নিহত হলেও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল।
এছাড়া ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে তালেবান সরকার।



