নেপালে কৃত্রিম লেক ভেঙে ভয়াবহ বন্যা: ১০৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশ:

নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় বরফধস ও ভূমিধসের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে এখনো কয়েক শ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের আট ঘণ্টা পার হওয়ার পর ৩৮৪ জন পর্যটকের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না, যার মধ্যে ২৯১ জনই বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা রয়েছেন।

নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান বিনোদ পারাজুলি জানিয়েছেন, চীন-নেপাল সীমান্তের একটি নদীতে বরফধস ও ভূমিধসের কারণে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে সাময়িকভাবে একটি কৃত্রিম লেক তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ তীব্র স্রোতে নিচের দিকে নেমে আসায় বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যায়। হাইড্রোলজি ও মেটেওরোলজি বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাতে কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, মিতেরি সেতু থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উজানে এই ধ্বংসাবশেষ জমেছিল, যা চীনের স্যাটেলাইট ছবিতেও ধরা পড়েছে।

পারাজুলি আরও বলেন, শুধুমাত্র পানি প্রবাহিত হলে বন্যা এতটা ধ্বংসাত্মক হতো না, কিন্তু উজানে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ স্রোতের সঙ্গে মিশে বন্যার তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক জানিয়েছেন, তিব্বতে সংঘটিত ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের কারণে বরফের স্তর নড়ে গিয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, যদিও ভূমিকম্পের সঙ্গে বন্যার সরাসরি সম্পর্ক এখনো নিশ্চিত নয়।

দুর্যোগের পর নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মীদের মাধ্যমে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে। নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কিছু মহাসড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের (ইসিমোড) বিশেষজ্ঞ সার্থক শ্রেষ্ঠ জানিয়েছেন, নেপাল অংশে পাথুরে বরফধসের কারণে লেন্দে নদীর গতিপথ আটকে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

বন্যায় নেপালের বিদ্যুৎ অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণে বিঘ্ন ঘটছে। এদিকে, ইসিমোডের জলবায়ু ও পরিবেশ ঝুঁকি বিভাগের প্রধান চিয়াংগং ঝাং সতর্ক করেছেন যে, সীমান্তের উজানে এখনো প্রতিবন্ধকতা থাকায় যেকোনো সময় দ্বিতীয় দফায় বন্যা হতে পারে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, নেপালের ভূমিধসের প্রভাবে তিব্বতের জিরং বন্দরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে।

শেয়ার করুন