ইরান এবং বেইজিংসহ তার বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানোর মার্কিন পরিকল্পনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। বেইজিং স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক বিবৃতিতে বলেন, চীন তথাকথিত এই "অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞার" তীব্র বিরোধিতা করে। একই সঙ্গে নিজের অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষায় বেইজিং "প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা" গ্রহণ করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এর আগে গত সোমবার মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সাথে যে দেশই আর্থিক অংশীদারিত্ব বজায় রাখবে, তাকেই বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন বা একঘরে করা হবে। বেসেন্ট এই নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনাকে ইরানের বিরুদ্ধে "ইতিহাসের একক বৃহত্তম আর্থিক আক্রমণ" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ব্যাংক এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ইরানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন না করে, তবে তাদেরও ইরানের মতোই বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্নতার মুখোমুখি হতে হবে।
কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করলেও বেসেন্ট জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই বিশ্বনেতাদের ফোন করবেন এবং "ইরানি সরকারের সাথে সমস্ত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বন্ধ করার সুনির্দিষ্ট অনুরোধ" জানাবেন।
উল্লেখ্য, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য কিছুটা হ্রাস পেলেও, চীন এখনো ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। মার্কিন এই চাপের মুখে চীনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে লিন জিয়ান বলেন, "চীন ও ইরানের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা সবসময় আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে বজায় রাখা হয়েছে। এতে কারো হস্তক্ষেপ বা বিঘ্ন সৃষ্টি করা উচিত নয়"।





