রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই যুবক। রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে তাদের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের সামনে হাজির করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিরা নিজেদের দোষ স্বীকার করায় তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
গত শনিবার রাত ১১টার দিকে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৩) ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার দিঘল রাতে পাশের ভবনের ছাদ হয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে প্রবেশ করে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। সেখানে তারা ইয়াবা সেবন করছিলেন। শেষ রাতের দিকে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে উঠে তাদের দেখে ফেললে এবং বকাঝকা করলে তারা তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শিক্ষককে হত্যার পর ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে আসা তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং সবশেষে ১২ বছরের ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মকেও তারা হত্যা করে। পুলিশের দাবি, প্রিয়ম তাদের চিনে ফেলায় ভবিষ্যতে ঘটনা ফাঁস হওয়ার ভয়ে তাকেও হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা ওই বাসার ওয়াশরুমে গোসল করে পুনরায় ইয়াবা সেবন করে এবং বাসার আসবাবপত্র তল্লাশি করে গহনা লুট করে। সিদ্ধার্থ স্বর্ণের দোকানে কাজ করায় গহনা গলিয়ে আসল সোনা শনাক্ত করে। এছাড়া বাসার ডাইনিংয়ে রাখা খেজুর ও ফ্রিজের শসা খেয়ে তারা সেখানে অবস্থান করে। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় লোকজন মসজিদে গেলে তারা পাশের বাড়ির ছাদ হয়ে পালিয়ে যায়।





