দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা গ্যাস সংকটের অবসান হতে চলেছে। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে এলএনজিবোঝাই একটি নতুন ট্যাংকার জাহাজ শনিবার দুপুরে এসে পৌঁছেছে। এই নতুন যোগান আসার সাথে সাথে এক্সিলারেট টার্মিনালে আগে থেকে জমা থাকা এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডের পাইপ লাইনে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানী লিমিটেডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববার সকাল নাগাদ এই টার্মিনাল থেকে পুরোদমে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। চট্টগ্রামস্থ কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর নাগাদ জাহাজটি নোঙ্গর করেছে এবং রাত ১০টার দিকে এলএনজি ভাসমান টার্মিনালে (এফএসআরইউ) স্থানান্তর শুরু হওয়ার কথা। বর্তমানে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে ৬৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে এবং টার্মিনালের পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেতে রোববার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
পেট্রোবাংলার ডিজিএম (জনসংযোগ) তারিকুল ইসলাম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্পট মার্কেট থেকে কেনা এলএনজি ভাসমান টার্মিনালে স্থানান্তর করা হচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ২৬ আগস্ট আরও একটি এলএনজি ট্যাংকার পৌঁছানোর শিডিউল রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার দ্রুত দুই জাহাজ এলএনজি ক্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছিল, যার একটি ইতিমধ্যে পৌঁছেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সামিটের টার্মিনালে নাইজেরিয়া থেকে আসা অপর একটি এলএনজি ট্যাংকার পৌঁছেছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেটের এমএলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে দেশে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছিল। টার্মিনালটি সচল হলেও এলএনজির মজুদ না থাকায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হওয়া, শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এই স্বাভাবিক অবস্থা কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে। বাংলাদেশ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় কাতার ও ওমানের কাছ থেকে এলএনজি সংগ্রহ করে থাকে এবং সৌদি আরবের আরামকো ট্রেডিংয়ের সাথে স্বল্পমেয়াদী জিটুজি চুক্তি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ায় সরকার বর্তমানে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার ওপর জোর দিচ্ছে।





