পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখ ঢাকার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর

প্রকাশ:

পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জোসে সেগুরো জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে একটি নতুন আইনে অনুমোদন দিয়েছেন। আইনটি মূলত জনসমক্ষে এমন পোশাক বা আবরণ পরা নিষিদ্ধ করে, যা কোনো ব্যক্তির মুখ আড়াল করে বা তার পরিচয় শনাক্ত করতে বাধা দেয়। স্থানীয় গণমাধ্যমে এটিকে 'বোরকা আইন' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, কারণ এটি মুসলিম নারীদের বোরকা বা নিকাব পরিধানের বিষয়টিকেই লক্ষ্য করে করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত মাসে পর্তুগিজ পার্লামেন্ট এই আইনের চূড়ান্ত সংস্করণ অনুমোদন করে। নতুন আইন অনুযায়ী, কেবল ধর্মীয় কারণেই নয়, বরং লিঙ্গ, বয়স বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে জনসমক্ষে মুখ ঢাকতে বাধ্য করাও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আইন অমান্য করলে ১৫০ ইউরো থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার সমান।

তবে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যগত কারণ, পেশাগত প্রয়োজন, শিল্পকলা বা প্রতিকূল আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতিতে মুখ ঢাকার অনুমতি বহাল থাকবে। এ ছাড়া উপাসনালয়, কূটনৈতিক মিশন এবং বিমানের ভেতরে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জনসমক্ষে মুখ অনাবৃত রাখা পর্তুগিজ সমাজের একটি বৈশিষ্ট্য এবং এটি সামাজিক আস্থার একটি কাঠামোগত মাত্রা। বিবৃতিতে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলা হয়েছে, মানুষের পরিচয় ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে মুখের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি কেবল নারীদেরই মুখ ঢেকে রাখার বাধ্যবাধকতা থাকে, তবে তা নারী-পুরুষের সমতা ও ইউরোপীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। সামাজিক সংহতি এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূর করাই এই সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

শেয়ার করুন