বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করা তার প্রথম অগ্রাধিকার। প্রায় ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে বিএনপি আন্দোলন করেছে। ক্ষমতায় এসে সেই বিএনপি কি বদলে যাচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বজায় রাখা এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাই তার প্রধান চ্যালেঞ্জ।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শূন্যতা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, তিনি একজন সদালাপী ও সজ্জন মানুষ ছিলেন, যার অভাব দলের জন্য অবশ্যই অনুভূত হবে। তবে তিনি চেষ্টা করবেন ফখরুলের সেই মহান গুণগুলো অনুসরণ করতে, যাতে নেতাকর্মীরা মানসিকভাবে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। দল ক্ষমতায় থাকলে সাংগঠনিক তৎপরতা কমে যাওয়ার যে প্রবণতা দেখা যায়, তা রোধে তিনি সচেতন থাকবেন বলে জানান। তিনি নিশ্চিত করেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের সাংগঠনিক শূন্যতা তৈরি হতে দেওয়া হবে না।
নেতাকর্মীদের বেপরোয়া আচরণের অভিযোগের বিষয়ে রিজভী বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর। ৫ আগস্টের পর থেকে দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় শোকজ, অব্যাহতি ও বহিষ্কারের মতো কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনগণ এখন দেখছে যে, বিএনপিতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হলে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়। হাইব্রিড বা সুবিধাবাদীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ত্যাগী ও ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীরাই তাদের চিহ্নিত করতে ভূমিকা রাখবেন। এছাড়া সম্প্রতি বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ১২ জন নেতাকে বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা প্রত্যেকেই মাঠের নেতা। জেলা বা বিভাগীয় শহরের আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও দলের যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমানের সঙ্গে কাজের সমন্বয় নিয়ে রিজভী বলেন, আগেও যেমন তার নির্দেশনায় আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালিত হয়েছে, এখনো সেভাবেই কাজ চলছে। দল ও সরকার আলাদা সত্তা হিসেবে কাজ করলেও দলের লোক হিসেবে সবাই সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনেও সচেষ্ট থাকবেন। বিএনপির ভবিষ্যৎ কৌশলের মূল লক্ষ্যই হলো জনসমর্থন ধরে রাখা এবং নতুন জনসমর্থন অর্জন করা। জাতীয় কাউন্সিল প্রসঙ্গে তিনি জানান, নীতিনির্ধারণী ফোরামের সিদ্ধান্তে খুব শিগগিরই কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করা হবে। নেতাকর্মীদের প্রতি তার বার্তা হলো, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি বা জমিদখলের মতো কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে হবে।





