নারায়ণগঞ্জের বন্দরে রিকশা গ্যারেজ মালিক ও ইসলামী আন্দোলনের নেতা জাহিদ হাসান বুলবুল হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বন্দরের মদনপুর এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে দিলে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বিক্ষোভকারীরা দ্রুত জাহিদ হাসান বুলবুল হত্যার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান। তারা হুঁশিয়ারি দেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে এবং তাদের মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের সালেহনগর এলাকায় জাহিদ হাসান বুলবুলকে (৪৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত বুলবুল সালেহনগর শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে ছিলেন। তিনি রিকশা গ্যারেজ পরিচালনার পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ শহরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় সালেহনগর এলাকায় বুলবুলের রিকশা গ্যারেজে লুটপাটের ঘটনায় তিনি বন্দর থানায় একটি মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় সিফাতকে প্রধান আসামি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, এরপর থেকেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বুলবুলকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে সালেহনগর এলাকায় বুলবুলের সঙ্গে সিফাত ও তার সহযোগীদের দেখা হয়। এ সময় তারা মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলবুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে সিফাতকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে। এলাকায় যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।





