পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবকে হত্যার ঘটনায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তদন্ত প্রত্যাখ্যান করেছে তার পরিবার। বুধবার আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিন্দের দাদি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বা দেশটির বিচারব্যবস্থার ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই। তাই ইসরায়েলি তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার কোনো আশা তারা করেন না। পরিবারের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী স্বীকার করে যে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে গাজা সিটিতে হিন্দকে বহনকারী গাড়িতে তাদের সেনারা গুলি চালিয়েছিল। এই ঘটনায় তারা একটি ফৌজদারি তদন্তের ঘোষণা দেয়। একই দিনে ২০২৫ সালের মার্চে রাফাহতে ১৫ জন জরুরি সেবা ও ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায়ও পৃথক তদন্তের কথা জানায় তারা। তবে হিন্দের দাদি দাবি করেন, হিন্দ, তার চাচা, চাচি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বহনকারী বেসামরিক গাড়িটিকে ইচ্ছাকৃতভাবেই লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। তিনি হিন্দ, তার ছয় স্বজন এবং তাদের উদ্ধারে যাওয়া ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের দুই কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমরা শুধু গাজার একটি শিশু হিন্দের নামে ন্যায়বিচার চাইছি না, গাজার সব শিশু শহীদের জন্য ন্যায়বিচার চাইছি।”
হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশনও ইসরায়েলি তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংগঠনটির মতে, এই তদন্তকে প্রকৃত ন্যায়বিচারের পথে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। হিন্দের দাদি জানান, ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ থেকে বাঁচতে পরিবারটি গাড়িতে করে অন্যত্র যাওয়ার সময় গাজা সিটির ফারেস গ্যাস স্টেশনের কাছে তাদের গাড়িতে গুলি চালানো হয়। ঘটনার সময় হিন্দের চাচাতো বোন লায়ান ফোনে সাহায্যের জন্য আকুতি জানিয়েছিল। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা হিন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন এবং সে জানায় যে সে তখনও জীবিত আছে।
পরিবারটি ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর ব্যবস্থা করে, কিন্তু উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের কাছে পৌঁছানোর সময় পুনরায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে ইসরায়েলি সেনারা এলাকা ত্যাগ করলে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলিতে ঝাঁঝরা গাড়িটির ভেতর হিন্দ ও তার ছয় স্বজনের মরদেহ দেখতে পান। তাদের উদ্ধারে যাওয়া রেড ক্রিসেন্টের দুই কর্মীকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের কাছে হিন্দের শেষ ফোনকলের অডিও প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এর আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছিল, হিন্দ নিহত হওয়ার সময় ওই এলাকায় তাদের কোনো সেনা উপস্থিত ছিল না। তবে স্বাধীন বিভিন্ন তদন্তে ভিডিও ও অডিও প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ঘটনাস্থলের আশপাশে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতির তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিশু রয়েছে।





