সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের দেওয়া বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, গত সোমবারের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সরকার এর নিন্দা জানায়। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে। তিনি আরও বলেন, নাহিদ ইসলামের বক্তব্যকে তিনি রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখছেন এবং এমন বক্তব্য দেওয়ার অধিকার তার রয়েছে। তবে দেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে সরকার আরও দায়িত্বশীল মন্তব্য প্রত্যাশা করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই কেন কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা জানান, তদন্তের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, কোনো রাষ্ট্র সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পরও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে, তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সরকার ঘটনাটিকে কতটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার সরকারি কলেজ মাঠে এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির সমাবেশ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সমাবেশ চলাকালে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পুনরায় বিদ্যুৎ আসার পর নাহিদ ইসলাম বক্তব্য শুরু করলে বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হন এবং সমাবেশস্থলে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর সাভার মডেল থানার সামনে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছিলেন যে, প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এই হামলার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে এবং এটি তাদের হত্যার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। যদিও হামলাকারী সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি, তবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
উল্লেখ্য, সোমবার (৬ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার সরকারি কলেজ মাঠে এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির সমাবেশ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন আহত হন এবং সমাবেশস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।





