জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী তমা মির্জা জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। গত তিন মাস ধরে তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত আছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তার এই পেশাগত পরিবর্তনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এই প্রেক্ষাপটে জনপ্রিয় সঞ্চালক, অভিনেতা ও নির্মাতা শাহরিয়ার নাজিম জয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সমালোচনামূলক পোস্ট দেন।
জয়ের সেই পোস্টে তিনি তমা মির্জার ব্যাংকে চাকরি নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি লেখেন, ‘বলা উচিত অভিনন্দন। কিন্তু বলতে গিয়ে থেমে গেলাম। তার মতো এত গুণী অভিনেত্রী এবং নায়িকা ব্যাংকসহ নানান প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হতে পারেন। কিন্তু ব্যাংকে চাকরি নিলেন তমা মির্জা- এমন সংবাদ আমার কাছে সঠিক মনে হয় না। আর যদি সংবাদটি সঠিক হয়, তাহলে আমি মর্মাহত।’ জয় আরও মন্তব্য করেন যে, তমা মির্জাকে যদি ব্যাংকে চাকরি নিতেই হয়, তবে অন্য নায়িকাদেরও গার্মেন্টসে চাকরি নেওয়া উচিত। তার মতে, এমন ঘটনা মিডিয়ার দৈন্যদশা পরিষ্কার করে এবং নতুন প্রজন্মকে ভুল বার্তা দেয়।
জয়ের এই মন্তব্য চোখ এড়ায়নি তমা মির্জার। তিনি ব্যাংকে চাকরি নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে পাল্টা কড়া জবাব দেন। অভিনেত্রী বলেন, ‘নিউজটা পুরোপুরি সত্য, আসেন এটা নিয়ে একটু আলোচনা করি। ফোনে কথা বলতে পারতাম, যেহেতু আমার ভাই পাবলিকলি বলল, আমিও এখানেই আলোচনা করি।’ তমা অভিযোগ করেন যে, জয়ের মন্তব্য অভিনয় ও ব্যাংকার—উভয় পেশাকেই ছোট করেছে। তিনি বলেন, ‘এলএলবি কমপ্লিট করা একটা মেয়ে চাকরিজীবী পরিবার থেকে এসে ১৬ বছর যখন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আছে এবং সামনেও থাকবে, তখন কিন্তু এমন প্রশ্ন কেউ করেনি। কারণ সেটা আমার সিদ্ধান্ত।’
তমা আরও যোগ করেন, ‘কেউ মিডিয়াতে কাজ করে বলে সে আর কোনো প্রফেশনে যেতে পারবে না, আর গেলে গার্মেন্টেসে কাজ করতে হবে বা আগে চাকরি নিয়ে পরে পার্ট-টাইম হিসেবে অভিনয় করতে হবে, এটা বললে তো আপনি দুই প্রফেশনকেই ছোট করলেন।’ জয়ের উদ্দেশে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, ‘অভিনয়ের বাইরে তাহলে আপনার মুভি রিভিউ, লাইভ কনটেন্ট ক্রিয়েট বা অন্য কিছু করা উচিত না। আমি আমার এবং সবার পেশাকেই সম্মান করি। কিন্তু আপনার মতো শিক্ষিত, মননশীল, প্রগতিশীল মানুষের মুখে এটা মানায় না।’ তমা গর্বের সাথে জানান যে তিনি এখন একজন ব্যাংকার এবং অভিনেত্রী—উভয় পরিচয়েই কাজ চালিয়ে যেতে চান। সবশেষে তিনি জানান, তার নতুন সিনেমা আসছে এবং জয়ের ভিডিওগুলো তিনি নিয়মিত দেখেন।
তমার পাল্টা মন্তব্যের পর জয় অভিনন্দন জানিয়ে পুনরায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘অভিনন্দন তমা মির্জা। ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলে আরও খুশি হতাম। কিন্তু তোমার যুক্তি সঠিক। তোমার চয়েজও সঠিক।’ তমাকে বুদ্ধিমতী অভিহিত করে তিনি আরও বলেন, ‘তুমি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্তই শুধু না, নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছো অভিনেত্রী হিসেবে। আমার চোখের সামনে তোমার এই উত্থান আমার দেখা এবং এতে আমি গর্বিত।’ সবশেষে জয় রসিকতা করে বলেন, ‘ফেসবুকের এই যুদ্ধ মজার আছে কিন্তু তমা। চালায় যাও আমিও আছি।’





