বিভিন্ন গবেষণার তথ্যমতে, মশা পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষতিকর ও ভয়ংকর প্রাণী। এমনকি মানুষের সৃষ্ট যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও এত মানুষ মারা যায় না, যতটা মশার কারণে ঘটে। রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ত্বকে কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি, তারা মশার কাছে বেশি আকর্ষণীয়। এছাড়া গর্ভবতী নারীরা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করেন, যা মশাকে আকৃষ্ট করে। মূলত এসব বিষয়ই মশার টার্গেট নির্ধারণে প্রভাব ফেলে।
মশা সম্পর্কে কিছু চমকপ্রদ ও অজানা তথ্য রয়েছে। পৃথিবীতে মশার প্রায় ৩,৫০০ প্রজাতি বিদ্যমান, যার মধ্যে অল্প কিছু প্রজাতি মানুষসহ স্তন্যপায়ী প্রাণীদের কামড়ায়। মজার বিষয় হলো, বাকি মশাগুলো মূলত ফুলের মধুর ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। মশা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩০০ থেকে ৬০০ বার ডানা ঝাপটাতে পারে, যা থেকে উৎপন্ন শব্দই আমরা কানের কাছে শুনতে পাই। এছাড়া একটি মশা ঘণ্টায় প্রায় ১ থেকে ১.৫ মাইল বেগে উড়তে সক্ষম।
মশা কামড়ানোর বিষয়ে একটি বিশেষ তথ্য হলো, কেবল স্ত্রী মশাই মানুষকে কামড়ায়। কারণ মানুষের রক্তের প্রোটিন তাদের ডিমের জন্য প্রয়োজন। পুরুষ মশারা মূলত স্ত্রী মশার রক্ত শুষে নেওয়ার সময় চারপাশে ভিড় করে তাদের সহায়তা করে। মশা খুব দ্রুত প্রজননক্ষম হয়ে ওঠে; ডিম থেকে বের হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা পূর্ণবয়স্ক মশার মতো আচরণ শুরু করে। এছাড়া নিয়মিত গোসল না করা, অতিরিক্ত ঘাম এবং শরীরের উচ্চ তাপমাত্রা মশাকে সহজেই ভিক্টিম খুঁজে পেতে সাহায্য করে। তবে আইসল্যান্ড বা অ্যান্টার্কটিকার মতো অঞ্চলে প্রয়োজনীয় উষ্ণতা ও জমে থাকা পানির অভাবে মশার অস্তিত্ব নেই।
প্রতিবছর ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগে বিশ্বে দুই মিলিয়নেরও বেশি মানুষ মারা যায়। বাংলাদেশেও মশার উপদ্রব বেশ ব্যাপক, যেখানে এখন পর্যন্ত ১২৬টি প্রজাতি চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকাতেই পাওয়া যায় ১৬ প্রজাতির মশা। বাংলাদেশে প্রধান মশাবাহিত রোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ডেঙ্গু (এডিস ইজিপ্টি ও অ্যালবোপিকটাস), চিকুনগুনিয়া (এডিস মশা), ম্যালেরিয়া (অ্যানোফিলিস মশা), ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগ (কিউলেক্স ও ম্যানসোনিয়া মশা) এবং জাপানিজ এনকেফালাইটিস (কিউলেক্স মশা)।
– একটি মশা সেকেন্ডে প্রায় ৩০০-৬০০ বার ডানা ঝাপটাতে পারে।
– একটি মশা ঘণ্টায় প্রায় ১-১.৫ মাইল বেগে উড়ে যেতে সক্ষম !





