হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশন করছেন সুফিয়া আক্তার (১৮) নামে এক তরুণী। বৃহস্পতিবার উপজেলার মুড়িয়াউক ইউনিয়নের মুড়িয়াউক গ্রামে প্রেমিক রায়হান উদ্দীনের বাড়িতে তিনি এই অনশন শুরু করেন।
স্থানীয় সূত্র ও সুফিয়া আক্তারের ভাষ্যমতে, প্রায় দুই বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মুড়িয়াউক গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে রায়হান উদ্দীনের সঙ্গে পরিচয় হয় সুফিয়ার। সুফিয়া করাব ইউনিয়নের সিংহগ্রামের ইনছান আলীর মেয়ে। ফোনালাপের মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি করেন তিনি। সুফিয়ার অভিযোগ, সম্পর্ক গভীর হওয়ার একপর্যায়ে রায়হান তাকে ঢাকার পুরান ঢাকার চানখারপুল এলাকায় একটি বাসায় নিয়ে রাখেন। সেখানে এক সপ্তাহ অবস্থানের সময় তাদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়। পরে রায়হান তাকে ঢাকার একটি রাস্তায় রেখে চলে যান বলে সুফিয়া দাবি করেছেন।
সুফিয়া আক্তার বলেন, রায়হান তাকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি তার বাড়ি থেকে কোথাও যাবেন না। তিনি আরও জানান, রায়হানের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তার আগের স্বামী তাকে তালাক দিয়েছেন এবং অন্যত্র বিয়ে করেছেন, ফলে বর্তমানে তার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, সুফিয়ার আগের বিয়ে হয়েছিল সিংহগ্রামের মৃত আদম আলীর ছেলে সুবেলের সঙ্গে এবং প্রায় তিন মাস ধরে তিনি সেই স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন।
মুড়িয়াউক ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য নুরে আলম জানিয়েছেন, বিষয়টি মীমাংসার জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু রায়হানের পক্ষ রাজি না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, রায়হানের বাড়িতে সুফিয়া অনশন করছেন এবং তাকে দেখতে স্থানীয়রা ভিড় করছেন, যা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে রায়হান উদ্দীন বা তার পরিবারের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, কারণ তাদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। লাখাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরীফ আহমেদ জানান, এ ঘটনায় এখনো কেউ তাদের কাছে কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২: ১৪আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২: ১৮





