পর্তুগালের উত্তরাঞ্চলের ভিলা নোভা দে গাইয়ার সান্তো ইনাসিও চিড়িয়াখানায় বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা বিরল প্রজাতির পিগমি জলহস্তীর একটি শাবক জন্ম নিয়েছে। সাধারণত সাধারণ জলহস্তীর তুলনায় পিগমি জলহস্তী আকারে অনেক ছোট হয়। পশ্চিম আফ্রিকার বন ও জলাভূমি এদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল হলেও বর্তমানে লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন, গিনি এবং আইভরি কোস্টের কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় এদের দেখা পাওয়া যায়।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএন পিগমি জলহস্তীকে ‘বিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে এদের সংখ্যা এখন ২৫০০-এরও কম। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্য পরিবেশে এই প্রজাতির প্রাণীর সংখ্যা আনুমানিক ২ হাজার থেকে ৩ হাজারের মধ্যে। মূলত বন উজাড়, কৃষি সম্প্রসারণ, খনন কাজ এবং মানুষের বসতি বিস্তারের কারণে এদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে।
নিশাচর স্বভাবের এই প্রাণীটি পানিনির্ভর হলেও দিনের একটি বড় সময় ঘন বন ও জলাভূমির আশেপাশে লুকিয়ে থাকে। ছোট আকার এবং বনভিত্তিক জীবনযাপনের কারণে বন্য পরিবেশে এদের পর্যবেক্ষণ করা বেশ কঠিন। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে চিড়িয়াখানাগুলোতে পরিকল্পিত প্রজনন কর্মসূচি বিপন্ন প্রজাতিটির বংশধারা টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সান্তো ইনাসিও চিড়িয়াখানায় এর আগেও এই প্রজাতির শাবকের জন্ম হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় সাম্প্রতিক সময়ে পিগমি জলহস্তীর শাবক জন্মের খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত ২ আগস্ট কানাডার টরন্টো চিড়িয়াখানাতেও একটি স্ত্রী পিগমি জলহস্তীর জন্ম হয়। ২০ বছর বয়সী মা কিনদিয়ার এটি তৃতীয় শাবক। জন্মের ১৫ মিনিটের মধ্যেই শাবকটি দাঁড়ানোর চেষ্টা করে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মায়ের সাথে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে শুরু করে।
টরন্টো চিড়িয়াখানার প্রধান নির্বাহী ডলফ ডি-জং এই ঘটনাকে নতুন প্রাণের আগমন এবং বিপন্ন প্রজাতি সংরক্ষণে চিড়িয়াখানাগুলোর ভূমিকার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল চিড়িয়াখানায় প্রজনন বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। পিগমি জলহস্তীর দীর্ঘমেয়াদী টিকে থাকার জন্য পশ্চিম আফ্রিকার প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। নতুন শাবকের জন্ম আশার খবর হলেও, বন্য পরিবেশে এদের সংখ্যা কমে যাওয়া সামগ্রিক সংরক্ষণ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালোভাবে মনে করিয়ে দিচ্ছে।




