২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এই পরাজয়ের পরপরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন দলের মহাতারকা নেইমার জুনিয়র। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই নিউ জার্সির মাঠে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই তারকা ফুটবলার। সতীর্থরা তাকে ঘিরে ধরে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিদায়ের সেই বেদনা ছিল স্পষ্ট। এটি কেবল একটি ম্যাচের হার ছিল না, বরং ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের দীর্ঘ এক অধ্যায়ের সমাপ্তিও ছিল।
ম্যাচে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে দলের একমাত্র গোলটি করেছিলেন নেইমার, তবে তা পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী চ্যানেল জিই টিভিকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় আবেগঘন কণ্ঠে নেইমার বলেন, “চেষ্টা করেছি, চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখানেই সব শেষ। এখান থেকেই শুরু করেছিলাম, এখানেই শেষ করলাম।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় যে, ব্রাজিলের জার্সিতে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পথচলা এখানেই থেমে গেল।
স্মৃতির পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, ২০১০ বিশ্বকাপের পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে তৎকালীন কোচ মানো মেনেজেসের অধীনে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন নেইমার। প্রায় ১৬ বছর পর সেই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই শেষ হলো তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬—টানা চারটি বিশ্বকাপ খেললেও ট্রফি ছোঁয়া হয়নি তার। যদিও ক্যারিয়ারে কনফেডারেশনস কাপ ও অলিম্পিকে সোনা জিতেছেন, তবে ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত শিরোপা বিশ্বকাপ তার অধরাই থেকে গেল।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নেইমার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এটিই হতে পারে তার শেষ আসর। শেষ পর্যন্ত সেই কথাই বাস্তবে রূপ নিল। ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং এক প্রজন্মের ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ের নায়ক নেইমারের এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে সেলেসাও ফুটবলের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।





