সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দুই হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক মেক্সিকো ও ইংল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর ৬টায় হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি শুরু হবে। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার শিরোপা জয়ের স্মৃতিবিজড়িত এই স্টেডিয়ামেই এবার থ্রি লায়নসদের বিপক্ষে মাঠে নামবে মেক্সিকানরা। ওই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে ইংল্যান্ডের বিদায় নেওয়ার দুঃখগাথা এখনো অনেকের মনে রয়েছে, তবে এবার গত আসরের ধারাবাহিকতায় শেষ আটে জায়গা করে নেওয়াই লক্ষ্য ইংলিশদের।
টুর্নামেন্টের রাউন্ড অব সিক্সটিনে দুই দলই কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে ইংল্যান্ড ২-১ গোলে ডিআর কঙ্গোকে পরাজিত করেছে। অন্যদিকে, ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে মেক্সিকো তাদের শক্তিমত্তা প্রমাণ করেছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ হারেনি উভয় দল। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে মেক্সিকোর তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে আছে ইংল্যান্ড। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয় দিয়ে আসর শুরু করলেও ঘানার বিপক্ষে ড্র এবং কঙ্গোর বিপক্ষে বেশ চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল কোচ টুখেলের শিষ্যদের। কঙ্গোর বিপক্ষে জয়সূচক জোড়া গোলটি করেছিলেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন, যিনি এখন পর্যন্ত পাঁচটি গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে আছেন।
১৯৬৬ সালে একবার বিশ্বকাপ জয়ী ইংল্যান্ড এবার শিরোপার লক্ষ্যে খেলছে। তবে তাদের সামনে এখন মেক্সিকানদের বাধা। ৪০ বছর আগে ঘরের মাঠে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা মেক্সিকো এবার আবারো সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে মরিয়া। ইকুয়েডরের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে আসা স্বাগতিকরা নিজেদের আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে ইংলিশদের আটকাতে প্রস্তুত। এখন পর্যন্ত দুই দলের ১০ বারের দেখায় ইংল্যান্ড ছয়বার এবং মেক্সিকো দুইবার জিতেছে; বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। আজতেকার মাঠে বাড়তি উত্তাপ ছড়ানো এই ম্যাচে শেষ হাসি কে হাসবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।




