মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম, একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক এবং বৈষম্যহীন সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। আগামীকাল বুধবার দিবসটি পালিত হবে, যার প্রাক্কালে আজ মঙ্গলবার তিনি এ সংক্রান্ত একটি বাণী প্রদান করেন।
বাণীতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৪ সালের এই দিনে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে এবং জাতি এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। তিনি এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে বীর জুলাই যোদ্ধাসহ দেশের সকল নাগরিককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
তিনি আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, ফারহান, নাফিজ, তাইম, নাঈমা, শিশু রিয়া গোপ ও আহাদসহ গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী হাজারো শহিদকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহত এবং হাত-পা-চোখ হারিয়ে পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিও তিনি গভীর সম্মান ও আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তাদের এই বিরল আত্মত্যাগ, অসীম সাহস ও অসামান্য অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে এবং তা অনন্তকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন, বৈষম্য, সীমাহীন দুর্নীতি, শোষণ, গুম-খুন, দলীয়করণ এবং গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অপ্রতিরোধ্য বহিঃপ্রকাশ। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা, বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য গায়েবি মামলা-হামলা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল ও জনবিচ্ছিন্ন করার বিষয়গুলো উল্লেখ করেন। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ নিরস্ত্র শিক্ষার্থী-জনতার ওপর নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ফলে দ্রুত সর্বব্যাপী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, তরুণ-যুবসমাজ, রাজনৈতিক কর্মী, শ্রমজীবী, পেশাজীবী এবং সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তিনি বলেন, জনগণই সকল রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস—গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই চিরন্তন সত্য আবারও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশাসন, জনস্বার্থ, জবাবদিহি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শহিদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় এমন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হবে যেখানে ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার ও উগ্রপন্থার কোনো ঠাঁই হবে না। তিনি রাষ্ট্র কর্তৃক শহিদ ও আহত যোদ্ধাদের পরিবারের কল্যাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিশেষে, তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।





