যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ককে সাধারণ বন্ধুত্বের গণ্ডি পেরিয়ে একটি প্রকৃত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান সম্পর্ককে বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সমর্থনের ভিত্তিতে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
শনিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটির যৌথ উদ্যোগে ছিল জাতীয় সংসদের ‘ককাস অব আমেরিকা’ এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংসদ সদস্য ড. মো. ওসমান ফারুক। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে, ‘ককাস অব আমেরিকা’র কার্যনির্বাহী কমিটিতে জামায়াতে ইসলামীর দুজন প্রতিনিধি রয়েছেন—ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান) এবং সংসদ সদস্য মিস মারদিয়া মমতাজ। তিনি বলেন, এই ককাসে তাদের অংশগ্রহণ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গঠনমূলক সংসদীয় কূটনীতি পরিচালনা এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে ডা. শফিকুর রহমান দেশীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি দলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তায় মার্কিন সরকার ও জনগণের দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিসহ উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে তিনি স্বাগত জানান এবং এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। এছাড়া সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় সংসদীয় কূটনীতির ভূমিকা নিয়ে তিনি আলোকপাত করেন। পরিশেষে, তিনি মার্কিন সরকার ও জনগণকে স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




