রাজনীতির বিভাজন ও সংস্কার: ভবিষ্যতের সংকট নিয়ে সতর্কবার্তা

প্রকাশ:

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে বাঁক বদলের এক অপূর্ব সোপান এবং দেশটিকে ১৮০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ঘুরে দাঁড়ানোর এক যুগান্তকারী অধ্যায়। তবে ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সেই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে কাদা-ছোড়াছুড়ি ও মেরুকরণ দৃশ্যমান হচ্ছে, তা ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। রাজনৈতিক দলগুলো যদি তাদের পুরনো মানসিকতা পরিবর্তন করে জবাবদিহিমূলক পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হারাতে পারে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, পক্ষ-বিপক্ষের এই গভীর দূরত্ব এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে অবাঞ্ছিত কোনো শক্তি অনুপ্রবেশ করতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকি বয়ে আনবে। দেশের সাংস্কৃতিক সীমান্ত মুছে গেলে ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়বে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।

রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার এখন সময়ের প্রধান দাবি। বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফ্যাসিবাদী জমানার দলীয়করণের কবল থেকে মুক্ত করতে হবে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত এবং গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার সনদ বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা। এই সনদ বাস্তবায়িত না হলে ভঙ্গুর নির্বাচন ব্যবস্থা, স্বৈরতন্ত্রের পুনরুত্থান এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো পুরোনো সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

সংস্কারের এই অভাব তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে, যা একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পানিনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও শিল্প বিকাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে সাফল্য পেতে হলে ন্যূনতম জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য। দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন ও জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের কোটি কোটি মানুষের কষ্টের অবসান ঘটবে না। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র মেরামতের এই ঐতিহাসিক সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

শেয়ার করুন