ভারতের অযোধ্যায় রামমন্দিরের দানপাত্র লুটের ঘটনায় প্রথমবারের মতো বিবৃতি দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস)। সংঘের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানান, চুরির এই ঘটনা ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত করেছে এবং এটি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তিনি অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানানোর পাশাপাশি এই ঘটনাকে ‘ব্যতিক্রমী’ হিসেবে উল্লেখ করে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন। হোসাবলের এই বিবৃতিকে অনেকে আরএসএস কর্তৃক বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) ওপর দায় চাপানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন।
রামমন্দির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের’ অধিকাংশ সদস্যই সংঘ ও ভিএইচপির সাথে যুক্ত। চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে যাদের দিকে আঙুল উঠছে, সেই চম্পত রাই, অনিল মিশ্র ও গোপাল রাও ভিএইচপির নেতা। যদিও তদন্ত শুরু হওয়ার পর চম্পত ও অনিল পদত্যাগ করেছেন, তবে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর দায়ের বা গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন কেন তাদের সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, ভিএইচপি সভাপতি অলোক কুমার জানিয়েছেন, ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চম্পত রাইয়ের কর্মকাণ্ডের দায় সংগঠন হিসেবে ভিএইচপি নিতে পারে না।
ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এক্স হ্যান্ডলে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, ভগবানের সম্পদ লুটের ঘটনায় দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ এবং মোদির মনোনীত ব্যক্তিরাই এই লুট চালিয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, এই অপরাধের দায়ে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট ভেঙে দেওয়া হোক। মন্দির নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে গঠিত ট্রাস্টের সদস্যদের নিয়ে ৬ জুলাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ট্রাস্ট পুনর্গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আরএসএস অবশ্য এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিন্দুদের ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। দত্তাত্রেয় হোসাবলে সতর্ক করে বলেছেন, হিন্দুবিরোধী ও দেশবিরোধী শক্তি এই দুঃখজনক ঘটনাকে হাতিয়ার করে হিন্দুধর্মকে কলঙ্কিত করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি হিন্দুদের জোটবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েছেন। মন্দিরের শিলান্যাস থেকে শুরু করে প্রাণপ্রতিষ্ঠা পর্যন্ত প্রতিটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের উপস্থিতি ছিল, তাই এত বড় ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে বিরোধী দলগুলো ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে।



