রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে নিয়োগের উদ্যোগ: কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের নতুন পরিকল্পনা

প্রকাশ:

দেশের বেকারত্ব নিরসনের লক্ষ্যে পাঁচ বছরে সরকারি ও বেসরকারি খাতে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার, যার অংশ হিসেবে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের শূন্য পদ পূরণের কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কাছে বিদ্যমান শূন্য পদের হালনাগাদ তালিকা এবং নিয়োগ কার্যক্রমের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য জানতে চেয়েছে।

বর্তমানে কয়েকটি পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কিছু পদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সুপারিশের অপেক্ষায় রয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের মোট অনুমোদিত পদ ১৭ হাজার ৪৪৫টি, যার মধ্যে ১১ হাজার ২২৭ জন কর্মরত রয়েছেন এবং ৬ হাজার ২১৮টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া জনতা ব্যাংকে ৩ হাজার, রূপালী ব্যাংকে ১ হাজার ৪৭০ এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ৮১০টি পদ শূন্য রয়েছে বলে জানা গেছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সাধারণত নবম ও দশম গ্রেডে নিয়োগ দিয়ে থাকে, যেখানে মোট শূন্য পদের ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে এবং বাকি ৫০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। অগ্রণী ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তাদের বিভিন্ন গ্রেডে মোট ৬ হাজার ২৪৮টি শূন্য পদ রয়েছে। ২০২৩ সালের চাহিদার ভিত্তিতে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে অফিসার (ক্যাশ) ও সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ৩২৩ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়া অফিসার (রুরাল ক্রেডিট) পদে ১৩৩ জনের মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং সিনিয়র অফিসার পদে ৪০০ জন নির্বাচিত হয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রয়েছেন, যাদের নিয়োগ ১৮০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি অর্থবছরে নবম গ্রেডে ১২ জন এবং দশম গ্রেডে ৩২০ জনের নিয়োগ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ব্যাংকটি। পাশাপাশি ২০২৪ ও ২০২৫ সালের চাহিদার ভিত্তিতে নবম ও দশম গ্রেডে আরও নিয়োগের প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।

তবে এই নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে ব্যাংক খাত-সংশ্লিষ্টরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের মতে, সোনালী ব্যাংক ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের অন্যান্য ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা নাজুক এবং এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ২০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমান জানান, ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো না হওয়ায় পর্ষদ নতুন জনবল নিয়োগে খুব একটা আগ্রহী নয় এবং বর্তমানে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো খেলাপি ঋণ আদায়।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে প্রয়োজনের চেয়েও অধিক জনবল রয়েছে। তবে ব্যাংকের কর্মপরিধি বাড়ানো গেলে, বিশেষ করে এসএমই খাতকে সক্রিয় করা হলে প্রচুর জনবলের প্রয়োজন হবে, কারণ এই খাতে ঋণ তদারকির জন্য অনেক লোক লাগে। তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি হলো বিনিয়োগ বাড়ানো, যার জন্য বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বন্ধ করা অপরিহার্য। সরকারের এই লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা উচ্চাভিলাষী হলেও আন্তরিকতা থাকলে তা অর্জন করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

শেয়ার করুন