আগামী ৫ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন মলচত্বরে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হবে। গত ২৮শে জুলাই উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে পরবর্তীতে চূড়ান্ত করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিন্ডিকেট দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠন করেছে। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা ২০০৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সকল নিয়োগের অনিয়ম পর্যালোচনা করবে। এই কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংক ও ইউজিসির অর্থায়নে পরিচালিত ‘হেকেপ’ প্রকল্পের গবেষণা কার্যক্রম ও অর্থ ব্যবহারের পর্যালোচনার জন্য প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সিন্ডিকেট সভায় বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে শ্রেণিকক্ষ ও এর বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও তথ্যানুসন্ধান কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের জন্য প্রধান প্রকৌশলীর অফিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম মাহবুব মুস্তাফাকেও সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা পরিপন্থি কর্মকাণ্ড, সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিরোধী অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং হুমকি প্রদানের অভিযোগে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসী ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। একই অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামকেও (রফিক শাহরিয়ার) দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকে বিভাগের নানাবিধ অনিয়ম এবং এম.ফিল ও পিএইচ.ডি থিসিসে সাদৃশ্যমূলক চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।





