চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেছেন, চট্টগ্রামে অপরাধ বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে কেউ ছাড় পাবে না। যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে, তাদের প্রত্যেকের পরিণতি শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের মতোই হবে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় এসপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
এসপি জানান, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের বাহিনীর অন্যতম শুটার হলেন ডেভিড ইমন। তার সঙ্গে আরও তিন সহযোগী গ্রেপ্তার হওয়ায় বাহিনীটির সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে এবং বড় সাজ্জাদের চেইন ভেঙে পড়ছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমেই ডেভিড ইমনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় তল্লাশি চালানো হয় এবং পরবর্তীতে তথ্য বিশ্লেষণ করে যশোর সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়।
ঢাকা থেকে পালানোর সময় ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীরা বারবার কৌশল পরিবর্তন করছিলেন। তারা পোশাক, ব্যবহৃত গাড়ি এমনকি চালকও বদলে ফেলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত খুলনা হয়ে যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে ঝুমঝুমপুর এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে তারা ধরা পড়েন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ডেভিড ইমনের তিন সহযোগী আলিস তমাল, শাফায়াত ও শামীমকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এসপি মাসুদ আলমের দাবি, ভারতে নিরাপদে অবস্থানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বড় সাজ্জাদ তাকে একটি আধার কার্ড সরবরাহ করেছিলেন, যা গ্রেপ্তারের সময় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কার্ডটি আসল নাকি জাল, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতরা চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা থাকলেও সেগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
এদিকে, একই রাতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে অভিযান চালানো হলেও সাজ্জাদ বাহিনীর সদস্য রায়হান আলমকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এসপি জানান, রায়হান আলম পুলিশের নজরদারিতেই রয়েছে এবং খুব দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া বোরহান নামে আরও এক সন্ত্রাসী পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তারের পর প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এসপি মাসুদ আলম।
পরদিন সকাল সাড়ে ১০টায় তাদের চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদের চট্টগ্রামে আনা হয়। বর্তমানে তারা জেলা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।





