২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত গণহত্যা এবং ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়নের পক্ষে অবস্থান গ্রহণকারী চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আ ন ম আয়াস এই স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শিল্প ও সংস্কৃতি হলো মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক চেতনা বিকাশের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। অভিযোগ রয়েছে যে, বেশ কয়েকজন শিল্পী, নির্মাতা, প্রযোজক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন, সহিংসতা ও গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই ব্যক্তিদের দায় নিরূপণ করা প্রয়োজন বলে মনে করে এসডিএফ।
সংগঠনটি তাদের অভিযোগে বিভিন্ন অভিনেতা-অভিনেত্রী, নির্মাতা ও প্রযোজকদের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) তাদের সাংগঠনিকভাবে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এসডিএফের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে—গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন, দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধবিরোধী কর্মকাণ্ডে শিল্পীদের সম্পৃক্ততা রোধে একটি স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়ন। এছাড়া, মানবাধিকার, পেশাগত নৈতিকতা এবং সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা রক্ষায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর অবস্থান নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে। সংগঠনের মতে, যেকোনো অভিযোগের সত্যতা উদ্ঘাটন ও দায় নিরূপণে নিরপেক্ষ এবং আইনসম্মত তদন্তই হলো গণতান্ত্রিক শাসনের একমাত্র পথ।





