উত্তর ইরাকের কুর্দি নিয়ন্ত্রিত ‘খোর মোর’ গ্যাসক্ষেত্রে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এই দাবি করেছে। এই গ্যাসক্ষেত্রটি ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহের প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত। আইআরআইবি-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত শেষ রাতের দিকে সুলাইমানিয়ায় অবস্থিত এই গ্যাসক্ষেত্রে হামলাটি চালানো হয়।
প্রায় একই সময়ে গ্যাসক্ষেত্র থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে কুর্দি শাসিত অঞ্চলের রাজধানী এরবিলেও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরাকি গণমাধ্যম ও ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কনস্যুলেটের নিকটবর্তী এলাকাসহ এরবিলে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিস্ফোরণের মুহূর্তের কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
আল-জাজিরার সঙ্গে আলাপকালে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এরবিলের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত খালিফান ও সোরান এলাকার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত চারটি ইরানি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, হামলার শিকার এলাকাগুলোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং দুটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি এসে বিধ্বস্ত হয়েছে। এই সন্দেহভাজন ইরানি হামলার জবাবে এরবিলের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন উড়তে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা স্থগিত রাখার পর এই নতুন হামলার খবর পাওয়া গেল। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে এই বিরতি দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধেই তিনি হামলা স্থগিত রেখেছেন। সোমবার মিশিগানে যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের ভালো আলোচনা চলছে এবং ভালো কিছু ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি এসে বিধ্বস্ত হয়।উল্লেখ্য, নতুন ধাপে টানা ১৩ রাত হামলার পর গত শুক্রবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা স্থগিত করেছে।





