মার্কিন হামলা স্থগিতের পরই সৌদি-জর্ডান-ইরাকে ড্রোন হামলা

প্রকাশ:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে টানা দুই সপ্তাহের বিমান হামলা হঠাৎ স্থগিত করার মাত্র দুই দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার সৌদি আরব, জর্ডান ও ইরাকে পৃথক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনার মাধ্যমে তেহরান ওয়াশিংটনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি কতটা কার্যকর, তা যাচাই করার চেষ্টা করছে।

সৌদি আরব জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ছোড়া একাধিক ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। রিয়াদের অভিযোগ, ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়ারা এসব ড্রোন উৎক্ষেপণ করেছে এবং এ ঘটনার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার অধিকার সৌদি আরব সংরক্ষণ করে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, সৌদি আরবের ইয়ানবু তেলবন্দরের দিকে যাওয়া জ্বালানি পরিবহন রুটে তারা হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের আকাশসীমায় সৌদি ড্রোনের অনুপ্রবেশের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

একই সময়ে জর্ডানের সামরিক বাহিনী দুটি ড্রোন ভূপাতিত করার কথা নিশ্চিত করেছে। এছাড়া উত্তর ইরাকে অবস্থিত ইরানবিরোধী কুর্দি বাহিনীর কয়েকটি শিবিরেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে, তবে এসব হামলার জন্য দায়ী কারা তা ইরাকি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সামরিক বাহিনীর পরামর্শেই ইরানে বিমান হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তু প্রায় শেষ হয়ে আসায় এবং আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি বজায় রাখলে তারাও নতুন হামলা চালাবে না। তবে দেশটি স্পষ্ট করেছে যে হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বহাল রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরুর কোনো অনুরোধ তারা জানায়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার বিষয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়েছে। গত সপ্তাহে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ওঠা ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সোমবার প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৯০ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে। তবুও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে অনিশ্চয়তা থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ঝুঁকি এখনো কাটেনি।

শেয়ার করুন