গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র সংগঠনগুলোর অভূতপূর্ব ঐক্য

প্রকাশ:

বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এক অভূতপূর্ব ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, যেখানে রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন একতাবদ্ধ হয়েছিল। এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল আওয়ামী লীগের অন্ধ অনুসারী ছাড়া দেশের প্রায় সকল মতাদর্শের মানুষের অংশগ্রহণ। বামপন্থী ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, বাসদের মতো প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াত এবং বর্তমান এনসিপির নেতাকর্মীরাও এই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। এমনকি আসিফ আদনানদের মতো কট্টর ডানপন্থি হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাও মাঠে ছিলেন, যা আন্দোলনকে মধ্যপন্থি থেকে শুরু করে কট্টর বাম ও ডানপন্থিদের অংশগ্রহণে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছিল।

আওয়ামী লীগের পতনের পথে গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদলকারী ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগের পতন। ২০১৩-১৪ সালের দিকে বিএনপি-জামায়াত এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্যাম্পাসকে ছাত্রলীগমুক্ত করতে ব্যর্থ হলেও, এই গণঅভ্যুত্থানের সময় তা সম্ভব হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত, আর ঢাকা কলেজ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর পেশিশক্তি ও ম্যানপাওয়ার সরবরাহের কেন্দ্র ছিল। এই দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হলছাড়া করতে পারা আন্দোলনের সাফল্যের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

ছাত্রলীগকে হল থেকে তাড়ানোর এই কাজটি কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের একক কৃতিত্বে সম্পন্ন হয়নি। পুরো আন্দোলনটি ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত এবং বহু মানুষ বিভিন্ন অবস্থান থেকে এতে ভূমিকা রেখেছেন। এই ঐতিহাসিক পর্বের কিছু পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হলেও, এটি পুরো ঘটনার একমাত্র বিবরণ নয়। আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নিয়েছেন, যাদের অনেকের নাম হয়তো লিপিবদ্ধ নেই।

জুন মাসের শেষ দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির এবং জুলাইয়ের ৭-৮ তারিখ নাগাদ ছাত্রদলকে আন্দোলনে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে কোনো দলই আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণ সমর্থন দেয়নি। ছাত্রশিবিরের অংশগ্রহণের বিষয়ে মাহফুজ ভাই ও লেখকের মধ্যে তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছিল, তবে শিবিরের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। ছাত্রশক্তির সঙ্গে পূর্বের কিছু মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের কারণে শিবির শুরুতে কিছুটা সন্দিহান ছিল। অন্যদিকে, ছাত্রদল সাধারণত দলীয় আন্দোলনের বাইরে সাধারণ ক্যাম্পাসের আন্দোলনে সহজে যুক্ত হতে চাইত না।

জুলাইয়ের ৪ তারিখের দিকে, লেখক তার ভাই তাওকীরকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের এক পর্যায়ে তৎকালীন শিবিরের সাহিত্য সম্পাদক ও ঢাবি শিবিরের সাবেক সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহর সঙ্গে ফার্মগেটের একটি হোটেলে দেখা করেন। সেখানে মাহফুজ আলমও উপস্থিত ছিলেন। তারা শিবিরকে আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য জোরালোভাবে অনুরোধ করেন, কারণ এটি একটি যৌক্তিক দাবির আন্দোলন ছিল এবং ২০১৮ সালেও তারা কোটা আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছিল। বাংলাদেশের দুটি বড় রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের সমর্থন ছাড়া আন্দোলনে পূর্ণ সফলতা অর্জন কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। সিবগাতুল্লাহ জানান, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সঙ্গে কথা বলে পূর্ণ সমর্থনের বিষয়ে চিন্তা করবেন।

এরপর ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়। তৎকালীন ছাত্রদলের অ্যাক্টিভিস্ট অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমানকে বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে আলাপ করার জন্য বারবার অনুরোধ করা হয়। পাশাপাশি ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলামের সঙ্গেও আলোচনা হয়। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন বর্তমান ঢাবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল আলম ভূঁইয়া ইমন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে সময় লাগলেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আন্দোলনের শুরু থেকেই উপস্থিত থাকবেন এবং হাইকমান্ডের সঙ্গেও আলোচনা করবেন। এ সময় হাবিবুর রহমান বর্তমান তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন এবং আন্দোলনের বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের নিয়মিত কথা হতো।

জুলাইয়ের ৮-৯ তারিখের পর লেখক শিবিরের সাদিক কায়েম এবং মাহফুজ ভাইয়ের সঙ্গে বারবার আলোচনা করেন, কীভাবে ছাত্রলীগকে হলছাড়া করা যায় এবং কবে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়। লেখকের ধারণা ছিল, নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ কিছুটা চাপে আছে এবং ছাত্রলীগকে হলছাড়া করতে পারলে একটি বড় সুযোগ তৈরি হবে। আলাপের একপর্যায়ে মাহফুজ আলম রাজি হন এবং সাদিক কায়েমকে রাজি করানোর জন্য বলেন। সাদিকও পরে সম্মতি জানান। শিবিরের পূর্বের সিদ্ধান্ত থাকতে পারে, তবে তাদের একক সম্মতিতে কাজ হবে না। তাই ছাত্রদলকে যুক্ত করার জন্য হাবিবুর রহমান ও নূর আলম ভূঁইয়া ইমনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়।

জুলাইয়ের ১৪ তারিখ রাতে আন্দোলনকারীদের পক্ষে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুল, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং নূর আলম ইমন একটি গ্রুপ কলে কথা বলেন। বকুল ভাই জানতে চেয়েছিলেন, তারা সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় যাবেন কিনা বা পরে ছাত্রলীগে যোগ দেবেন কিনা। আন্দোলনকারীরা তাকে আশ্বস্ত করেন যে, তারা মাঠে থাকলে শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে। এই অনড় অবস্থানের পর বকুল ভাই প্রতিশ্রুতি দেন এবং রাকিব-ইমন ভাই বলেন, অন্য সংগঠনগুলো যুক্ত হলে ছাত্রলীগকে হলছাড়া করার সর্বোচ্চ চেষ্টা তারা করবেন। পরে নূর আলম ইমন ছাত্রদলের পক্ষে বিষয়টি সমন্বয় করেন।

আন্দোলনের সময় কোনো লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের আলোচনা না থাকলেও, আন্দোলনকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিস্তৃত করতে এবং সবার সঙ্গে সমন্বয় সাধনের জন্য নাহিদ ইসলাম, মাহফুজ আলম, আসিফ মাহমুদ প্রমুখ লেখকের কাছে এই দায়িত্ব দেন। ফলে অন্য সব পক্ষকে আন্দোলনে যুক্ত করার কাজটি লেখক নিজেই করেন। একটি অংশ বাম সংগঠনগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছিল।

আন্দোলনের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল যে, বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতেন। এতে সব পক্ষই মনে করত যে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই আন্দোলনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানেও এই কারণে সবাই দাবি করেন যে, আন্দোলনটি তারা এককভাবে করেছেন। কিন্তু বাস্তবে কেউ এককভাবে করেননি, সবাই মিলে করেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে সবার সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলা হতো, যাতে কেউ ধরা পড়লে বা আন্দোলন সম্পর্কে তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে পুরো আন্দোলন, বিশেষ করে শিবির, ছাত্রদল বা বাম সংগঠনগুলোর পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ পেলে সমস্যা হতে পারত। এ কারণেই ছাত্রদল মনে করেছে তারা সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ করেছে, শিবিরও নিজেদের ভূমিকাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছে, এবং বাম সংগঠনগুলোর মধ্যেও একই ধরনের ধারণা ছিল। এটি আন্দোলনের একটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল।

বকুল ভাইয়ের সঙ্গে মিটিংয়ে ছোটখাটো হামলার জন্য শিক্ষামন্ত্রী বা ভিসির পদত্যাগের মতো দাবির বিষয়েও আলোচনা হয়। পরবর্তীকালে বহু মৃত্যুর পর ৯ দফা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রদল পূর্ণভাবে ৯ দফা মেনে নেয় এবং সমর্থন ব্যক্ত করে। মিটিংয়ের পর সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে নূর আলম ভূঁইয়া ইমনের সঙ্গে আলাপ করেন লেখক এবং সাদিক কায়েমের সঙ্গেও কথা বলেন, যাতে তারা পুরোপুরি সক্রিয় থাকেন। ইমন জানান, তাদের নেতাকর্মীরা হলের দিকে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেই রাতে নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, মাহফুজ আলমসহ সব প্ল্যাটফর্ম সিদ্ধান্ত নেয় যে, ছাত্রলীগকে পতন ঘটাতেই হবে।

মূল নেতাদের সরকার ট্র্যাক করত বলে, তারা বিভিন্নজনকে দিয়ে সবার সঙ্গে সমন্বয় করতেন। এ কারণে পরে সরকার ছয় সমন্বয়ককে তুলে নিলেও বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো সূত্র বের করতে পারেনি।

মেয়েদের হলগুলো থেকে ছাত্রলীগের পতন ঘটানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কারণ ছেলেদের হলের তুলনায় মেয়েদের হলে ছাত্রলীগের আধিপত্য কিছুটা কম ছিল। শামসুন্নাহার হল, কুয়েত মৈত্রী হল ও সুফিয়া কামাল হলকে প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে শামসুন্নাহার হলে ইমি আপু ভিপি হওয়ায় সেখানে নুসরাত তাবাসসুম (বর্তমানে এনসিপির সংরক্ষিত আসনের এমপি) সহ ছাত্র অধিকার পরিষদ ও পরে ছাত্রশক্তির ভালো ভিত্তি ছিল। কুয়েত মৈত্রী হলে সাগুফতা বুশরা মিশমা (এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব) এবং রাফিয়া রেহনুমা হৃদি (বর্তমান হলের ভিপি) সক্রিয় ছিলেন। সুফিয়া কামাল হলেও অ্যান্টি-ছাত্রলীগ প্যানেল বিজয়ী হওয়ায় জুনিয়রদের মধ্যে ভালো প্রভাব ছিল। যেকোনো একটি হল থেকে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে বের করে দিতে পারলে বাকি হলগুলোতে চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হবে—এমন লক্ষ্য ছিল।

রোকেয়া হল প্রাথমিকভাবে মূল পরিকল্পনার বাইরে ছিল। কিন্তু সেখানে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকা বিনতে হোসাইনকে জোর করে চুল ধরে হল থেকে বের করে দেওয়ার খবর সব হলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ছাত্রদল ও শিবিরের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বোঝাপড়া তৈরি হওয়ায় এবং ডিবেটিং ক্লাবসহ অন্যান্য সংগঠনগুলো যুক্ত হওয়ায়, সবাই আত্মবিশ্বাস পায় যে এখন চূড়ান্তভাবে আন্দোলন শুরু করা যায়। সব হলে বার্তা পাঠানো হয়: ‘ছাত্রলীগকে তাড়াতে হবে।’ এই পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ত হন সাধারণ শিক্ষার্থীরা, যারা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। বিশেষ করে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করা শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ঢাবি ডিবেটিং ক্লাবের একটি অনন্য ভূমিকা ছিল। প্রতিটি হলে ডিবেটিং ক্লাবের শাখা থাকায়, লেখকের বাসায় থেকে জহুরুল হক হল ডিবেটিং ক্লাবের সাবেক সভাপতি নুরুল কাউসার রাকিব প্রতিটি হলের ডিবেটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের আন্দোলনে যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিস্টেমে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী রাজনীতি না করলেও হলে সিটের জন্য ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে বাধ্য হতো। যখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিদ্রোহ করল, তখন বাধ্য হয়ে রাজনীতি করা শিক্ষার্থীরাও ঘুরে দাঁড়াল। ফলে পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ মূল নেতাকর্মী আর টিকতে পারেননি। এরপর ঢাবির পাশাপাশি রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ও ছাত্রলীগ-মুক্ত হয়।

শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে, আন্দোলনের পরিধি এত বেশি বিস্তৃত ছিল যে এর বাইরেও অনেকেই নিজ নিজ পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়ে কাজ করেছেন। এছাড়া সেসময় আরো অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে, যা হয়তো এখন লেখকের মনে নেই। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য কেবল শেখ হাসিনার পতন ছিল না, বরং ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান, দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও স্বাধীন ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা এবং মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা ছিল। আশা করা যায়, বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাবে।

শেয়ার করুন