দ্রুত পদত্যাগের পথে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, উত্তরসূরি নিয়ে চলছে আলোচনা

প্রকাশ:

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শীঘ্রই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। সরকার, বিরোধী দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাও তাই গুরুত্ব পাচ্ছে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। জানা গেছে, ইতিমধ্যে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে সরকার ও দলের ভেতরে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, খুব শীঘ্রই তিনি পদত্যাগ করতে পারেন।

বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজে তাঁর অধস্তন কর্মীদের শীঘ্রই বঙ্গভবন ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। এছাড়া ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের আলোচনায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একজন চুক্তিভিত্তিক সচিবের নাম উঠে এসেছে। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থার কারণে তাঁর নাম সামনে এলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আরও আলোচনা হবে। এর আগে খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নাম শোনা গেলেও খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ বিষয়ে নিজের অজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে গণ-অভ্যুত্থানের পর ছাত্রনেতারা তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিলেন, তবে অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। অতীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার থাকাকালীন এবং এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণেও তিনি বিভিন্ন সময়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। রাষ্ট্রপতি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলে এটি হবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে একটি বড় পরিবর্তন, যেখানে বিএনপি প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাবে।

শেয়ার করুন