সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার জেরে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। তিনি ১৯৯১ সালে প্রথম সাতক্ষীরা–৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। দলীয় তদন্তে তাঁর ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলটি জানিয়েছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে জানান, দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হবে।
৭৪ বছর বয়সী গাজী নজরুল ইসলাম এবার তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি জামায়াতের সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমির এবং কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ছিলেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাতক্ষীরা–২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আবদুল খালেক। ইজ্জত উল্লাহ পাশের সাতক্ষীরা–১ আসনের সংসদ সদস্য। গত মঙ্গলবার সাতক্ষীরায় তদন্ত কমিটির কাছে নিজের বক্তব্য দেন গাজী নজরুল। তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, বিয়ের আগে ওই নারীর সঙ্গে গাজী নজরুল একাধিকবার দেখা করেছেন, যা দলের ভাষায় ‘পর্দা লঙ্ঘন’ এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
গাজী নজরুল ইসলাম অবশ্য দাবি করেছেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। সংসদ সদস্য যাঁকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, ওবায়দুর রহমান তাঁর মামা। গত ২১ জুলাই করা এই মামলায় ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেছেন, সংসদ সদস্যের ‘অনৈতি সম্পর্কের’ প্রতিবাদ করায় এবং একটি ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় তাঁর হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করে তাঁকে মারধর করা হয়েছে। সেই সন্দেহ থেকেই ১৪ জুলাই তাঁর নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর হামলা চালান। বাদী ওবায়দুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন বেলা ১১টার দিকে আমিনুর রহমান কৌশলে তাঁকে বাসার ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। এদিকে, ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানকে মারধর ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগে গাজী নজরুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি মামলা হয়েছে। তাঁরা হলেন আমিনুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোস্তাসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)। এই মামলায় আমিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যাকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ড হলে সংসদ সদস্য অযোগ্য হন, কিন্তু গাজী নজরুল এখনো এমন কোনো অপরাধে দণ্ডিত হননি। তবে ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ বা বহিষ্কারের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। এদিকে, ভিডিও প্রকাশের পর সাতক্ষীরার শ্যামনগরে স্থানীয় বিএনপি ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর বিচার ও পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে।





