সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুল রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা এই মামলায় এমপি ছাড়াও মাসুম বিল্লাহ, মোতাসসিম বিল্লাহ, আমিনুর রহমান ও রাকিবুল হাসানকে আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা জানিয়েছেন, আমিনুর রহমানকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে ওবায়দুল রহমান উল্লেখ করেছেন, তিনি পল্লবীর কালশী এলাকার রোজগার্ডেন টাওয়ারে তার বোনের বাসায় থাকতেন এবং এমপি নজরুলের গাড়ি চালাতেন। আত্মীয়তার সুবাদে এমপি ওই বাসায় যাতায়াত করতেন এবং ওবায়দুল রহমানের ভাগ্নির সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওবায়দুল এই সম্পর্কের প্রতিবাদ করলে এমপি তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মগবাজারের একটি চক্র এমপির কিছু ভিডিও সংগ্রহ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করছিল। এমপির ধারণা হয়, ওবায়দুলই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন।
এ ঘটনার জেরে গত ১৪ জুলাই এমপির নির্দেশে আসামিরা ওবায়দুলকে মারধর করেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে। ওইদিন বেলা ১১টার দিকে আমিনুর রহমান কৌশলে ওবায়দুলকে বাসার ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন এবং একপর্যায়ে আমিনুর ফ্লোরে ফেলে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। ওবায়দুরের মা ও বোন চিৎকার করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে আসামিরা তাকে যেখানে পাবে সেখানেই হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে, নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বুধবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। এর আগে সোমবার রাতে এক তরুণীর সঙ্গে এমপির আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। যদিও এমপি দাবি করেছেন, ভিডিওর ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং গত ১৭ জুন তাদের বিয়ে হয়েছে। বিয়ের সময় প্রথম স্ত্রী ও তরুণীর বাবা উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হলেও, ওই তরুণীর চাকরির আবেদনে তাকে অবিবাহিত হিসেবে উল্লেখ করা এবং বিয়ের তারিখ নিয়ে কাজী বাকী বিল্লাহর দেওয়া তথ্যে অসংগতি পাওয়া গেছে।





