বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল কেপ ভার্দে। ম্যাচটি শুরুর আগে থেকেই বজ্রপাতসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে শঙ্কা ছিল। মাঠে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১১১তম মিনিটে লিওনেল মেসির কর্নার থেকে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো হেডের মাধ্যমে বল জালে জড়ালে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায়। তবে এর আগে ম্যাচের ৫৯ মিনিটে ডরি দুয়ার্তের গোলে সমতায় ফিরেছিল কেপ ভার্দে। এরপর ৯২তম মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের বাম পায়ের শটে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই মেসি বেশ সক্রিয় ছিলেন। ১৪তম মিনিটে বক্সের বাম পাশ থেকে তার শট বাইরে চলে যায়, যা ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই শটের কথা মনে করিয়ে দেয়। ১৮ মিনিটে মেসির একটি ফ্রি কিক সহজেই লুফে নেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। প্রথমার্ধের বিরতির আগে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের লং বল থেকে মেসি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এই গোলটি ২০১৮ বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির করা গোলের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। গোলরক্ষক ভোজিনিয়া অবশ্য প্রথমার্ধে আরও দুটি শট ঠেকিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি।
দ্বিতীয়ার্ধে ৬১ মিনিটে মেসি গোল করার আরেকটি সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু ভোজিনিয়া তা রুখে দেন। ৭২ মিনিটে বক্সের একটু সামনে বাম পাশে ফ্রি কিক পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে দুর্দান্ত একটা ফ্রি কিক নিয়েছিলেন মেসি। সেটা আরও দারুণভাবে ঠেকিয়ে দিয়েছেন কেপ ভার্দের দেয়াল ভোজিনিয়া। এরপর কর্নার কিকটাও কাজে লাগাতে পারল না আর্জেন্টিনা। ১-১ সমতায় থেকে হাইড্রেশন ব্রেকে গেল আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে। ৫৯ মিনিটে ডরি দুয়ার্তে সমতা ফেরানোর আগে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ তার একটি শট দারুণভাবে ঠেকিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সিডনি লোপেস কাবরালের একটি দুর্দান্ত শট এমিলিয়ানো মার্তিনেজের নাগাল এড়িয়ে জালে জড়ালে কেপ ভার্দে ম্যাচে সমতা ফেরায়। ইনজুরি সময়ের চতুর্থ মিনিটে মেসির ফ্রি কিকটিও ভোজিনিয়া ঠেকিয়ে দেন। শেষদিকে কাবরালের ফ্রি কিক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করেন।
ম্যাচে আর্জেন্টিনার একাদশে ছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, ফাকুন্দো মেদিনা, নাহুয়েল মলিনা, রদ্রিগো দে পল, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্তার, এনসো ফের্নান্দেজ, লিওনেল মেসি, থিয়াগো আলমাদা এবং লাউতারো মার্তিনেজ। অন্যদিকে কেপ ভার্দের হয়ে মাঠে ছিলেন ভোজিনিয়া, দিনেই বোর্গেস, পিকো লোপেস, সিডনি লোপেজ কাব্রাল, স্টিভেন মরেইরা, কেভিন পিনা, জোভানে কাব্রাল, দেরয় দুয়ার্তে, লারোস দুয়ার্তে, রায়ান মেন্দেস এবং নুনো দা কস্তা।
ইনজুরি সময়ের ৪র্থ মিনিটে বক্সের বাইরে ডান পাশে একটা ফ্রি কিক পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। মেসি খানিকটা নিচুতে মেরেছিলেন শটটা। সেটাও ঠেকিয়ে দিলেন ভোজিনিয়া।
রক্ষণ থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দুর্দান্ত এক লংবল পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। বক্সে ঢুকে তিনি একা পেয়ে গিয়েছিলেন ভোজিনিয়াকে। এক টাচে আয়ত্বে নিয়ে বলটা দারুণ এক শটে জড়ালেন জালে। বিশ্বকাপে ২০তম গোলের দেখা পেয়ে গেলেন মেসি।



