ভারতে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মে মাস থেকে তরুণদের ক্ষোভের জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা শুরুতেই জানিয়েছিলেন, তারা মোদি সরকার এবং বিরোধী দল—উভয়ের প্রতিই আস্থা হারিয়েছেন, কারণ কেউই তাদের সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারেনি।
তবে পরিস্থিতির মোড় ঘোরে সোমবার, যখন দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে মিছিলের সময় পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের এই কঠোর অভিযানে বহু শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর সিজেপির নেতারা বিরোধী দলগুলোর কাছে সরাসরি সমর্থনের আহ্বান জানান। এরপরই বিরোধী দলগুলো আন্দোলনের পাশে এসে দাঁড়ায়। সোমবারের এই বিক্ষোভে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলগুলোর জন্য তরুণ ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার এটি একটি বড় সুযোগ। ভারতের ১৪২ কোটির বেশি জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষের বয়স ৩০ বছরের নিচে। উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না হওয়ায় এই তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। আগামী ২০২৯ সালের এপ্রিলে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও, তার আগে আগামী বছর উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাবে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন রয়েছে। সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটিজের অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার বলেন, এই ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জনমত তৈরি হয়েছে এবং বিরোধী দলগুলো আন্দোলনকারীদের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইছে।
মঙ্গলবার রাতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন। রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে ভারতের প্রতিটি পরিবারের ওপর হামলা। যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে মন্ত্রিসভার এক সদস্য জানিয়েছেন, শাসক জোটের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন।
সিজেপির মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াতে চান না এবং কোনো রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে যেতেও আগ্রহী নন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশিদ কিদওয়াই ও সন্দীপ শাস্ত্রী সতর্ক করেছেন যে, আন্দোলনের মূল দাবি—প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি—বৃহত্তর রাজনৈতিক এজেন্ডার আড়ালে চাপা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সরকারপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো ইতিমধ্যে অভিযোগ তুলেছে যে, বিরোধী দলগুলো রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য আন্দোলনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।





