জুলাইসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সাহস, ত্যাগ ও অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। সোমবার রাজধানীর বিএমএ ভবন মিলনায়তনে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘জুলাইয়ের রক্তাক্ত জুব্বা: মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৭ ও ১৮ জুলাই আন্দোলন যখন স্তিমিত হয়ে পড়েছিল, তখন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করেছিল। তিনি আরও বলেন, যুগ যুগ ধরে ওলামায়ে কেরাম অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দিয়েছেন। গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরেছে। জুব্বাকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সরকারের প্রতি তাদের আত্মত্যাগকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করার আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। এই পরিবর্তনকে ‘জুলাই নিয়ে ব্যবসা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে অস্বীকার করার শামিল। অতীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দোহাই দিয়ে গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং এখন একইভাবে জুলাইয়ের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা কেবল সংবিধানের প্রচলিত ধারায় ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়, বরং জনগণের বিপ্লবী আকাঙ্ক্ষা থেকেই এর জন্ম হয়েছে। তাই সংবিধান সংশোধনের নামে প্রহসন না করে গণভোটের রায় ও জনগণের সংস্কার-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। সরকার দ্রুত সংস্কারে উদ্যোগী না হলে ওলামায়ে কেরামসহ জুলাই আন্দোলনের সব শক্তিকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন নাহিদ ইসলাম। তবে তিনি আলোচনার মাধ্যমে সংসদেই এই সংকটের রাজনৈতিক সমাধান প্রত্যাশা করেন।
সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার, লেখক ও চিন্তক মুসা আল হাফিজ এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।





