কানাডার দাবানলের ধোঁয়া ছড়ানোর মাশুল আদায় করবেন ট্রাম্প

প্রকাশ:

যুক্তরাষ্ট্রে দাবানলের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় কানাডা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি ঘোষণা করেন, এই দূষণ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের যে বিশাল অংকের ব্যয় হচ্ছে, তা কানাডার কাছ থেকে আদায় করা হবে। এর অংশ হিসেবে কানাডিয়ান পণ্যের ওপর বর্তমানে আরোপিত শুল্কের সঙ্গে এই অতিরিক্ত খরচ যুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন তিনি।

কানাডার বিভিন্ন স্থানে চলমান দাবানলের ধোঁয়া গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিষয়টিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য পরিস্থিতি’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে ফোন করে এ বিষয়ে জানতে চাইবেন বলে জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, বনভূমি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় কানাডাকে দায়ী করছি। এতে যুক্তরাষ্ট্র অস্বাস্থ্যকর ও দূষিত বাতাসের কবলে পড়েছে, যা অহেতুক কোটি কোটি ডলারের ক্ষতি করছে। ট্রাম্পের দাবি, প্রতি বছর এমন ঘটনা ঘটছে যা ইচ্ছাকৃত অবহেলার ফসল।

তবে ট্রাম্পের এই অভিযোগের বিপরীতে কানাডার জরুরি ব্যবস্থাপনাবিষয়ক মন্ত্রী এলিয়েনর ওলশেভস্কি জানিয়েছেন, ২০২০ সাল থেকে বন সংরক্ষণ ও দাবানল প্রতিরোধে কানাডা ১ হাজার ২০০ কোটি কানাডীয় ডলার বা প্রায় ৮৫৬ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। তিনি জানান, বর্তমানে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো কানাডার মানুষকে সুরক্ষিত রাখা। ওলশেভস্কি আরও উল্লেখ করেন, সীমান্তের দুই পাশে দাবানল মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ইতিহাস রয়েছে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও থম্পসন রিভার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবানল বিশেষজ্ঞ মাইক ফ্ল্যানিগান জানান, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে চরম আবহাওয়ার কারণে দাবানল আরও বাড়ছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নির কার্যালয় ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও, কার্নি বৃহস্পতিবার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে বৈশ্বিক উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন। আগামী রোববার ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল চলাকালে ট্রাম্প ও কার্নির মধ্যে সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বছর কানাডার অন্টারিও প্রদেশে দাবানলের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জনবিরল এলাকায় প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার একর বনভূমি পুড়ে গেছে। এই ঘটনায় হাজারো মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্টারিওর নামায়গুসিসাগাগুন ফার্স্ট নেশন এলাকায় সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় বাসিন্দারা নৌকায় করে থান্ডার বে শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। টরন্টো থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ (৩০০) কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এটির অবস্থান। থান্ডার বের মেয়র কেন বশকফ জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শহরের সব আশ্রয়কেন্দ্র পূর্ণ হয়ে গেছে। প্রদেশের প্রধান ডাগ ফোর্ড জানিয়েছেন, দাবানল মোকাবিলায় ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনা হবে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রেও এ বছর ৩৭ লাখ একর জমি পুড়েছে, যা গত ১০ বছরের গড়ের তুলনায় অনেক বেশি।

আর এতে দাবানলের ঘটনা আরও বাড়বে।’২০২৫ সালে ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি হওয়া বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেন।কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির কার্যালয় ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এ পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার একর (প্রায় ২ হাজার ৬৩০ বর্গকিলোমিটার) বনভূমি পুড়ে গেছে।

শেয়ার করুন