জীবিত বাদশা শেখকে মৃত ঘোষণা, এক যুগ ধরে দ্বারে দ্বারে রিকশাচালক

প্রকাশ:

ফরিদপুর পৌরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর সাদীপুর এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক বাদশা শেখ (৫২) দীর্ঘ এক যুগ ধরে নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন। মৃত গেন্দু শেখের ছেলে বাদশা শেখ পেশায় রিকশাচালক এবং দুই সন্তানের জনক। সরকারি তথ্যভান্ডারে তাঁকে মৃত হিসেবে চিহ্নিত করায় তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক হয়ে যায় এবং ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ে।

ভুক্তভোগী বাদশা শেখ জানান, ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে তিনি ভোটার তালিকায় নিজের নাম পাননি। এরপর তিনি জানতে পারেন, নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে তাঁকে মৃত দেখানো হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি জীবিত, কিন্তু কাগজে-কলমে আমাকে মৃত বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ জন্য আমার এনআইডিও ব্লক করে রাখা হয়েছে।’

সমস্যা সমাধানের আশায় সম্প্রতি বাদশা শেখ ফরিদপুর জেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে নিজের ছবিসহ জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন করেন। নির্বাচন কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, গত ২৩ জুন তিনি ফরিদপুর পৌরসভা থেকে জীবিত থাকার প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে নির্বাচন কমিশনে জমা দেন।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লেখেন, ‘যারা নিজেদের কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তথ্য যাচাইয়ের সব উপকরণ হাতে থাকার পরেও নিজেদের ভুলের জন্য সাধারণ মানুষকে এভাবে ভোগায় তাদের প্রজাতন্ত্রের চাকরি করার মতো মানসিক ফিটনেস আছে কি না পরীক্ষা করা দরকার। আমার মতে, এরাই প্রকৃত অর্থে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।’

ফরিদপুর পৌরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ আলাউল হোসেন এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সংশোধন করে বাদশা শেখকে তাঁর প্রাপ্য নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেবে।

বিষয়টি নিয়ে আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারেক আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে বাদশা শেখের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ইতিমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের তথ্যভান্ডারে তাঁকে আর মৃত দেখানো হচ্ছে না। তাঁর ভাষ্যমতে, বিষয়টি না বুঝেই হয়তো এখনো অভিযোগ করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন