২৩ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ভোলার প্রতিবন্ধী রোকেয়া

প্রকাশ:

ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খালের পাড় এলাকায় এক অমানবিক পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন রোকেয়া বেগম নামের এক প্রতিবন্ধী নারী। তার স্বামী মো. ইসমাইল এক বছর আগে হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়াই পরিবার ছেড়ে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে স্বামী বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন, সেই খবর আজও তার অজানা। স্বামীর অনুপস্থিতি ও নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতায় দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন তিনি। এমন করুণ দশা ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খালের পাড়ের বাসিন্দা মো. ইসমাইলের স্ত্রী প্রতিবন্ধী রোকেয়ার। এক বছর আগে কিছু না বলেই হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান স্বামী। এক বছর আগে আমার স্বামী ইসমাইল আমাদের সবাইকে ফেলে চলে গেছেন। প্রতিবন্ধী হওয়ায় কোনো কাজও করতে পারি না।

রোকেয়া জানান, নিজের শারীরিক অক্ষমতার কারণে কোনো ধরণের কায়িক শ্রম বা কাজ করার সামর্থ্য তার নেই। বর্তমানে পাশের বাড়ির এক আত্মীয়ের দয়ায় একটি ঝুপড়ি ঘরে তিনি সন্তানদের নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তায় কোনোমতে বেঁচে থাকলেও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড বা সরকারি কোনো সুবিধা এখনো তার ভাগ্যে জোটেনি। সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও তাদের অন্ন সংস্থান নিয়ে তিনি প্রতিনিয়ত গভীর দুশ্চিন্তায় থাকেন।

ভুক্তভোগী এই নারী অভিযোগ করেন, স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সময়ে অনেকেই তাকে সরকারি কার্ড এবং নানাবিধ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে কেউ আর তার খোঁজ নেয়নি, যা তাকে আরও অসহায় করে তুলেছে। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে এলাকার বিত্তবান ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক এবং বেদনাদায়ক। অসহায় ওই প্রতিবন্ধী নারী ও তার সন্তানদের পরিস্থিতির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রতিবন্ধী কার্ড প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

শেয়ার করুন