২৩ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন নিজের বিপুল সম্পদ সন্তানদের দেবেন না মার্ক জাকারবার্গ?

প্রকাশ:

মেটা প্ল্যাটফর্মের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ এবং তাঁর স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান তাঁদের অর্জিত সম্পদের সিংহভাগ সন্তানদের উত্তরাধিকার হিসেবে না দিয়ে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার এক দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০১৫ সালে এই দম্পতি প্রথমবার তাঁদের এই অভিপ্রায়ের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন। সে সময় জাকারবার্গের সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৫ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। ফরচুন ম্যাগাজিনের তথ্যের ভিত্তিতে সেলেব ডটকম এই বিষয়ে আলোকপাত করেছে।

২০১৫ সালের ১ ডিসেম্বর দম্পতির প্রথম সন্তান ম্যাক্সিমার জন্মের পর তাঁরা একটি খোলাচিঠি লেখেন। চিঠিতে জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান উল্লেখ করেন, ‘সব মা-বাবার মতো আমরাও চাই, তুমি আজকের চেয়ে ভালো পৃথিবীতে বড় হও।’ এই লক্ষ্য অর্জনে তাঁরা নিজেদের সম্পদের একটি বড় অংশ মানুষের সম্ভাবনা বিকশিত করা এবং সমতা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ করার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের বিশ্বাস, শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে বিনিয়োগ করলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনেক বেশি সুযোগ তৈরি হবে।

এই মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাঁরা প্রতিষ্ঠা করেন চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভ (সিজেডআই)। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনী প্রকল্পে তাঁরা নিয়মিত অর্থায়ন করছেন। তাঁদের এই সিদ্ধান্ত জাকারবার্গ দম্পতিকে বিশ্বের শীর্ষ ধনী দাতাদের কাতারে সামিল করেছে। বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট এবং মাইকেল ব্লুমবার্গের মতো ব্যক্তিত্বরাও একইভাবে নিজেদের সম্পদের বড় অংশ জনকল্যাণে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছেন। তাঁদের মূল দর্শন হলো, সম্পদ যেন কেবল পরবর্তী প্রজন্মের হাতে কুক্ষিগত না থাকে, বরং বৃহত্তর সমাজের উন্নয়নে কাজে লাগে।

সমাজ ও ভবিষ্যতের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে জাকারবার্গ দম্পতি মনে করেন, বিনিয়োগ শুধু বর্তমানের চাহিদা পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তাঁদের মতে, আগামী দিনে যারা পৃথিবীতে আসবে, তাদের জীবনমান উন্নত করার পরিকল্পনা এখন থেকেই গ্রহণ করতে হবে। প্রথাগত ব্যক্তিমালিকানাধীন দাতব্য ফাউন্ডেশনের তুলনায় সিজেডআই কিছুটা ভিন্নভাবে পরিচালিত হয়। এটি অনেকটা কোম্পানির মতো কাঠামোয় কাজ করে, যা দাতব্য অনুদানের পাশাপাশি ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং নীতিনির্ধারণী উদ্যোগে অর্থায়নের সুযোগ রাখে।

প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পর্যায়ে সিজেডআই আবাসন খরচ হ্রাস, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় সংস্কার, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলোতে বিশেষ নজর দিয়েছিল। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সংস্থাটির অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রও পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে এই উদ্যোগটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণা এবং বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের নতুন উপায় খুঁজে বের করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

বর্তমানে জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান দম্পতির তিন মেয়ে রয়েছে—ম্যাক্সিমা, অগাস্ট এবং অরেলিয়া। সন্তানদের বিপুল সম্পদের উত্তরাধিকারী করার পরিবর্তে তাঁদের এমন একটি পৃথিবীতে বড় করে তোলা তাঁদের লক্ষ্য, যেখানে তারা মেধা ও সুযোগের সমতা পাবে। এই জীবনদর্শনের অংশ হিসেবেই নিজেদের উপার্জিত বিশাল সম্পদের বড় একটি অংশ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা দম্পতি।

শেয়ার করুন