২২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে, হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

প্রকাশ:

দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষকে জাতীয় ঐক্যের পথে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে থেকে যে কোনো প্রকার ষড়যন্ত্রকারীকে কঠোরভাবে জবাব দেওয়া হবে। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষকে কখনোই দমিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে আসা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার (৯ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত র‌্যালিপূর্ব সমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর দেশের মানুষ এখন মুক্ত পরিবেশে এই বিশেষ দিনটি উদ্‌যাপনের সুযোগ পেয়েছেন। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ভোটাধিকারকে বাধাগ্রস্ত করতে আবারও একটি অশুভ মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যারা অতীতেও বিভিন্ন অপচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। অতীতেও এ ধরনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, কিন্তু দেশের মানুষকে কখনো দাবিয়ে রাখা যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না। কিন্তু পরবর্তী সময়েও নানা উপায়ে সেই অধিকার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখ লাখ মানুষের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের মূল প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই বিভিন্ন সময় দেশে ও বিদেশ থেকে চক্রান্তকারীরা সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করার পাঁয়তারা চালিয়েছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেদিন এ দেশের মানুষ সম্মিলিতভাবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তিকে পরাজিত করেছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখ লাখ মানুষের আত্মত্যাগ এবং ঘরবাড়ি ছেড়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে।

পরবর্তীকালে ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক অধিকারের সুরক্ষার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সবশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার সাহসী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী শক্তিকে বিতাড়িত করে মানুষ নতুন করে ভোটাধিকার ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পেয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১৯৭৫ ও ২০২৪ সালের মতোই বাংলাদেশের মানুষ যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন শুধু গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, এর মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী শক্তিকেও দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। তবে অতীতের আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবারও একটি পক্ষ জনগণের ভোট ও নির্বাচনব্যবস্থাকে নস্যাৎ করতে তৎপর। সব রাজনৈতিক দলের প্রতি তার আহ্বান, জাতীয় স্বার্থে এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি পুনরায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আগের গণ-অভ্যুত্থানগুলোর মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের কড়া জবাব দেওয়া হবে এবং গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কোনো অশুভ শক্তিকেই জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে দেওয়া হবে না। দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থ ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিভেদ থাকা উচিত নয়।

শেয়ার করুন