১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫২তম বিসিএস কি বিশেষ হবে? চাকরিপ্রত্যাশীদের মনে বাড়ছে সংশয়

প্রকাশ:

সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে জনবল বাড়াতে সরকার একটি বিশেষ বিসিএস আয়োজনের কথা ভাবছে—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর চাকরিপ্রত্যাশীদের মাঝে নতুন করে সংশয় ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্যমতে, এই বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন এএসপি নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নীতিগত পর্যায়ে আলোচনার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) জানিয়েছে, ৫২তম বিসিএস বিশেষ করার বিষয়ে তাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা চাহিদাপত্র আসেনি। পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, কমিশনের বোর্ড সভায় বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চাহিদা পাওয়ার পরই কেবল কমিশন এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

এর আগে পিএসসির কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ৫২তম বিসিএসকে একটি সাধারণ বিসিএস হিসেবে পরিচালনার কথা ছিল। প্রতিষ্ঠানটি চলতি ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে নতুন এই সাধারণ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতিও নিচ্ছিল। বর্তমানে পিএসসির লক্ষ্য হলো প্রতি বছর অন্তত একটি সাধারণ বিসিএস সম্পন্ন করা। তবে বিশেষ প্রয়োজনে বা জরুরি জনবল ঘাটতি মেটাতে মাঝেমধ্যে বিশেষ বিসিএসের আয়োজন করতে হয়, যা সাধারণ বিসিএস প্রত্যাশীদের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল পিএসসি। ইউরোপের ঘণ্টাপ্রতি বেতন যে ১০ দেশে সবচেয়ে বেশি। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিবছর ক্যাডার পদগুলোর জন্য সাধারণ বিসিএসের অপেক্ষায় থাকেন দেশের লাখ লাখ চাকরিপ্রার্থী। এই আশঙ্কাই সাধারণ ক্যাডারপ্রত্যাশীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু পরপর দুটি বিশেষ বিসিএস চলে এলে সাধারণ বিসিএসপ্রত্যাশীদের বিসিএস পাওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়ে পড়ে।

চিকিৎসকদের জন্য সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৫১তম বিসিএস ছিল একটি বিশেষ বিসিএস। ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের লক্ষ্যে নেওয়া এই পরীক্ষায় ৪ হাজার ৭০০ সহকারী সার্জন ও ৩০০ ডেন্টাল সার্জন পদের বিপরীতে ৪৪ হাজার ৬৩৫ জন চিকিৎসক আবেদন করেছেন। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এখন যদি এএসপি পদের জন্য পুনরায় বিশেষ বিসিএস আনা হয়, তবে সাধারণ বিসিএসপ্রার্থীরা সময় নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তায় পড়ার আশঙ্কা করছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া এএসপিদের বনিয়াদি প্রশিক্ষণের মেয়াদ কমিয়ে দ্রুত মাঠপর্যায়ে পদায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও গোয়েন্দা তথ্যের যাচাই-বাছাইয়ের ওপর জোর দেওয়া হবে। সাধারণ বিসিএসের তুলনায় বিশেষ বিসিএসের পরীক্ষা পদ্ধতি ভিন্ন হয়; এতে লিখিত পরীক্ষার পরিবর্তে সাধারণত প্রিলিমিনারি ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয়। নিউজিল্যান্ড শিক্ষার্থী ভিসায় আনল চার পরিবর্তন।

উল্লেখ্য, পিএসসির রোডম্যাপ অনুযায়ী ৫০তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশের লক্ষ্যমাত্রা চলতি বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫২তম বিসিএস কোন পথে এগোবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে সরকারের চূড়ান্ত চাহিদাপত্রের ওপর। চাহিদাপত্র না পাওয়া পর্যন্ত কমিশন তাদের নির্ধারিত সাধারণ বিসিএসের সূচি অনুসারেই কাজ চালিয়ে যাবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন