শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হুমকি প্রদান এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এ ঘটনার প্রতিকার ও নিজেদের কর্মস্থলের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিতে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালটির প্রধান ফটকসংলগ্ন সড়কে এক প্রতিবাদী মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচি থেকে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ সময় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ এস এম মফিদুল ইসলাম, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা অমিয় জ্যোতি সাইফুল্লাহ এবং চিকিৎসক শরীফ মো. হাসানুজ্জামান সাব্বির বক্তব্য দেন। এছাড়া নার্সিং ইনচার্জ শারমিন আলম, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. মাহবুবুল আলম শাহীন ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. মনিরুজ্জামানসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সময় উপস্থিত থেকে সংহতি জানান।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় রেজাউল করিম ফাক্কুর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকে চিকিৎসক ও নার্সদের লাঞ্ছিত করে আসছে। গত শুক্রবার দুপুরেও ফাক্কু ও তার অনুসারীরা চিকিৎসার বাহানায় ভেতরে ঢুকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারাত্মক হুমকি দেন ও গোলযোগ সৃষ্টি করেন। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ভয়ভীতির কারণে চিকিৎসক ও কর্মচারীরা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, যার ফলে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তারা বলেন, হাসপাতাল মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তাদের হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা দায়িত্ব পালনে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালকে রোগীদের সেবাপ্রাপ্তির একটি স্পর্শকাতর ও জরুরি স্থান উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত করে এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই অরাজকতা বন্ধ করতে হবে। ইতিমধ্যে এই ঘটনার বিচার চেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শ্রীবরদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। অচিরেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি না করা হলে আরও কঠোর আন্দোলনের দিকে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।





