১২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে মারধরের অভিযোগ ড্যাব কর্মীদের বিরুদ্ধে

প্রকাশ:

রাজধানীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) কার্যালয়ে ঢুকে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে, ঘটনার সময় ৮-৯ জনের একটি দল জোরপূর্বক তার কক্ষে প্রবেশ করে তাকে চেয়ার থেকে টেনে তুলে মারধর শুরু করেন। এ ঘটনার তদন্ত হতে হবে, দোষীদের শাস্তি দিতে হবে।

সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি অভিযোগ করেছেন, বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এই মব বা দলবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কাজী আহমেদ যখন নিজের কক্ষে অন্যদের সাথে বৈঠক করছিলেন, তখনই হামলাকারীরা সেখানে প্রবেশ করে। কাজী আহমেদ জাকি জানিয়েছেন, তিনি দাপ্তরিকভাবে এই হামলার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। তিনি করোনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ব্রিফিং করে বেশ পরিচিতি পান।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ দাবি করেছেন, কাজী আহমেদের বিরুদ্ধে কিছু অসন্তোষ রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, কাজী আহমেদ কেন বর্তমান সরকারের সময়েও মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরার সঙ্গে তার কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন—এই প্রশ্নের জের ধরেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআর-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এদিকে, হামলার সময় উপস্থিত থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জনস্বাস্থ্যবিদ জানান, হামলাকারীদের আইইডিসিআর প্রাঙ্গণে আগে কখনো দেখা যায়নি। আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন এই ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, আইইডিসিআর সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, যারা দেশের রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার কাজ করে। আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির সাথে যৌথভাবে কাজ করা এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমান পরিচালক হিসেবে অধ্যাপক কাজী আহমেদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি সম্প্রতি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়েও গবেষণা করেছেন। আইইডিসিআর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) মতো সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে।

শেয়ার করুন